Image description

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় দুই ডজন মানুষ নিহত হয়েছে। বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হন। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাখাইন রাজ্যে একটি যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। এর একদিন আগে প্যারামোটররা মধ্য সাগাইং অঞ্চলের একটি গ্রামে বোমা হামলা চালায়। এসব ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। খবর রয়টার্সের।

 

সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাউ ও ইরাবতী জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় দুই ডজন মানুষ নিহত ও বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। পশ্চিম উপকূলের রাখাইন রাজ্যে ক্ষমতাসীন জান্তা বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অভিযোগ, একটি ব্যস্ত গ্রামীণ বাজারে যুদ্ধবিমানের বিমান হামলায় শিশুসহ ১৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে।

 

যদিও রয়টার্স এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এ বিষয়ে জানতে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বিমান হামলায় শিশুসহ বেসামরিক নিহতের ঘটনায় ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ ইউনিসেফ। একইসঙ্গে সংস্থাটি মিয়ানমারের সংঘাতরত সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘শিশু ও বেসামরিক নাগরিকরা আবারও ক্রমবর্ধমান সংঘাতের শিকার হচ্ছেন। চলমান সংঘর্ষ শিশুদের বাস্তুচ্যুত করছে এবং স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত করছে।’

 
 

 

প্রসঙ্গত ২০২১ সালে অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ৫ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার এই জাতিগত বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশটির বিভিন্ন অংশে সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করছে। স্বায়ত্তশাসনের জন্য সংগ্রাম ও সেনা শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে দেশটির।

 

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই অস্থিরতার ফলে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এটি এশিয়ার সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকটের দৃষ্টান্ত, যেখানে খাদ্য ও মানবিক সাহায্যের ঘাটতি ৪০ শতাংশ জনসংখ্যাকে প্রভাবিত করেছে।