Image description

আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। 'অনলাইন ডেস্ক' এর ক্রেডিটে প্রকাশিত খবরটির শিরোনাম ছিল, "মব ‘আতঙ্কে’ সরকারি বাসভবন ছাড়তে ‘অনীহা’ সাবেক উপদেষ্টাদের"।

খবরটিতে বলা হয়েছে, “এবার সেই মব সহিংসতার আতঙ্কে আছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েক উপদেষ্টাসহ ওই সরকারের আমলে শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের তুলনায় বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সাবেক কয়েক উপদেষ্টা মনে করছেন, তারা জনরোষের কবলে পড়তে পারেন। এই আতঙ্কে তারা আপাতত সরকারি বাসভবন ছাড়তে ‘অনীহা’ প্রকাশ করছেন। সরকারি বাসভবনে নিরাপত্তা বেশি থাকায় তারা সেখানে থেকে যেতে যাচ্ছেন।"

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক উপদেষ্টার বরাতে আরও লেখা হয়েছে, "রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ভবন ভাঙচুর, আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িঘরে হামলা, তাদের বিরুদ্ধে গণহারে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার অভিযান, সারা দেশে সুফি মাজার ভাঙচুর, চব্বিশের আন্দোলনের সমন্বয়কদের চাঁদাবাজি, সাবেক অনেক উপদেষ্টার দুর্নীতি ইত্যাদি কারণে জনগণের ক্ষোভ আছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। এসব ব্যর্থতার জন্য সব উপদেষ্টা সমানভাবে দায়ী না হলেও এখন বিষয়গুলো দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত রিপোর্টটি পুরোপুরি অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে লেখা হয়েছে। কোন নাম পরিচয় দেয়া সূত্র বা প্রমাণ হাজির করা হয়নি দাবির পক্ষে।

তবে নিজেদের 'অনলাইন ডেস্ক' এর বরাতে প্রকাশিত রিপোর্টটি প্রকৃতপক্ষে কালের কণ্ঠের নিজেদের নয় বলে নিশ্চিত হয়েছে দ্য ডিসেন্ট।

কালের কণ্ঠ তাদের ওয়েবসাইটে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ঠিক ৯টায় "মব ‘আতঙ্কে’ সরকারি বাসভবন ছাড়তে ‘অনীহা’ সাবেক উপদেষ্টাদের" শিরোনামের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

হুবহু একই শিরোনামে এই প্রতিবেদন গতকাল রাত ১১টা ৪০ মিনিটে প্রকাশিত হয়েছিল 'সুখবর ডটকম' নামের একটি অখ্যাত পোর্টালে।

মূলত এই পোর্টালের প্রতিবেদনটি হুবহু কপিপেস্ট করে প্রকাশ করেছে কালের কণ্ঠ, কিন্তু এটা যে অন্য জায়গা থেকে কপিপেস্ট করা হয়েছে তা কালের কণ্ঠ উল্লেখ করেনি।

 

সুখবর ডটকমের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার বিভিন্ন জেলার নামে পরিচালিত কিছু ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজ থেকেও প্রতিবেদনটি হুবহু পুন:প্রকাশ করা হয়েছে।

যেমন, সুখবর ডটকমে প্রকাশিত হওয়ার এক ঘন্টা পর খবরটি প্রকাশিত হয় Noakhali24 নামের একটি ফেসবুক পেইজে। সেখানে এই সুখবর ডটকমের নাম উহ্য রেখে প্রকাশ করেছে তারা।

এরপর আজ সকাল ৯টায় কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে খবরটি ভাইরাল হতে শুরু করে। যেমন, ভয়েস বাংলা খবরটি কালের কণ্ঠের বরাতে নতুন করে প্রকাশ করেছে।

জেলার নামে পরিচালিত পেইজ বা ওয়েসবাইটের কয়েকটির নাম এরকম: আজকের মেহেরপুর, বরিশাল বার্তা, আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কন্ঠ।

হাসান শান্তনু নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুক পেইজে গতকাল রাতেই সুখবর ডটকমের রিপোর্টের ফটোকার্ড শেয়ার করেন। তার আইডি ঘেঁটে দেখা যায় তিনি নিয়মিতভাবে সুখবর ডটকমের খবর প্রচার করেন। আবার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বলা হয়েছে তিনি ২০২২ সালের মে মাস থেকে কালের কণ্ঠে কাজ করছেন।

হাসান শান্তনুর সাথে এ ব্যাপারে কথা বলে দ্য ডিসেন্ট।

তিনি জানান তিনি বর্তমানে সুখবর ডটকমে কাজ করলেও প্রতিবেদনটি তার লেখা নয়। প্রতিবেদকের নাম জানতে চাইলে তিনি নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান। যে উপদেষ্টার বরাতে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে তার নাম জানতে চাইলেও তিনি নারাজি প্রকাশ করেন।

এবং তিনি আরও জানান এক সময় কালের কণ্ঠে কাজ করলেও এখন করছেন না।

কালের কণ্ঠ কর্তৃক এরকম অন্য ওয়েবসাইট থেকে কপিপেস্ট করে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রমাণ আগেও পেয়েছে দ্য ডিসেন্ট। পড়ুন এখানে