মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জালান তুন তান সিউ সিন এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গড়ে ওঠা ৯টি অবৈধ ক্লিনিকে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এই অভিযানে ১৭ জন বাংলাদেশি এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিকসহ মোট ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখার বিশেষ টাস্কফোর্স এবং কুয়ালালামপুর স্বাস্থ্য বিভাগের ফার্মাসিউটিক্যাল এনফোর্সমেন্ট শাখার সহায়তায় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, এই ক্লিনিকগুলো অত্যন্ত চতুরতার সাথে পরিচালিত হচ্ছিল। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এটি সাধারণ ফোনের দোকান, খেলনা বা ঘড়ির দোকান, ট্রাভেল এজেন্সি এমনকি রেস্তোরাঁ। কিন্তু দোকানের পেছনের গোপন ছোট কামরায় অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়া এবং ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছিল।
অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট। এছাড়া রয়েছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ।
অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্ডি রামলি জানিয়েছেন, এই ওষুধগুলো মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা নতুন অভিবাসীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে পাচার করে আনা হয়েছে। এই ভুয়া ডাক্তাররা সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে পরামর্শ ফি হিসেবে ৫০ থেকে ১০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত আদায় করত।
আটককৃতদের মধ্যে একজন ৫০ বছর বয়সি বাংলাদেশি নাগরিক নিজেকে ‘ডাক্তার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, তার কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত সনদ বা ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। মাসিক ২ হাজার রিঙ্গিত বেতনে কাজ করলেও তার মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা) মূল্যের ওষুধ বিক্রি ও চিকিৎসা সেবা দেয়া হতো।
লোকমান আরও জানান, মূলত নিজ দেশের ওষুধের প্রতি আস্থা এবং ভাষাগত সহজবোধ্যতার কারণে সাধারণ বাংলাদেশি প্রবাসীরা এই অবৈধ ক্লিনিকগুলোর ফাঁদে পা দিচ্ছেন। এর আগেও এই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুয়া ডাক্তারদের বহিষ্কার করা হয়েছিল কিন্তু চক্রটি আবারও নতুন করে কার্যক্রম শুরু করে।
আটককৃতদের বয়স ২৪ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসন প্রবিধান ১৯৬৩-এর ৩৯(বি) ধারা এবং অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৬(১)(সি) ধারা আইনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া, অবৈধ ওষুধ বিক্রির দায়ে ওষুধ বিক্রয় আইন ১৯৫২ অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত চালাচ্ছে।
শীর্ষনিউজ