তারকা দম্পতি মেহজাবীন ও আদনান আল রাজীবের বিয়ের এক বছর পূর্তি হয়েছে। মেহজাবীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বরাবরই সরব। আজ ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। ছবিতে ছবিতে জেনে নেওয়া যাক মেহজাবীন ও আদনান সম্পর্কে কিছু তথ্য—

মেহজাবীন চৌধুরী আর আদনান আল রাজীব—একজন পর্দার সামনে, আরেকজন দৃশ্যের পেছনের অদৃশ্য শিল্পী। এই দম্পতির শুরুটা বন্ধুত্বে এরপর তাঁরা প্রেম থেকে পরিণয়ে জড়িয়েছেন। এরই মধ্যে এক বছর পার করেছেন তাঁরা। ভালোবাসা দিবসের প্রথম প্রহরে স্বামী আদনানের সঙ্গে তোলা একগুচ্ছ স্থিরচিত্র ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।
স্থিরচিত্র পোস্ট করে মেহজাবীন ক্যাপশনে তাঁর মনের কথা লিখেছেন। মেহজাবীনের লেখা পোস্টের সারমর্ম এমন, ‘একসঙ্গে বড় হয়েছি। একসঙ্গে লড়েছি পৃথিবীর সঙ্গে। ১৪ বছরের বন্ধুত্ব-ভালোবাসার পথচলা, তার মধ্যে এক বছর হলো আমাদের সংসার। আজও যদি নতুন করে শুরু করার সুযোগ আসে, আমি তোমাকেই বেছে নিতাম, আদনান।’

মেহজাবীনের পোস্ট করা স্থিরচিত্রে দুই ঘণ্টায় ৯ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন জমা পড়েছে। মন্তব্য করা হয়েছে দুই শতাধিকের মতো।
২০০৯ সালে লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় মেহজাবীন প্রথমবারের মতো সবাইকে মুগ্ধ করেছিলেন। এরপর নাটকের জগতে তাঁর পদচারণ আলো ছড়াতে থাকে। এ সময়েই তাঁর পরিচয় হয় নির্মাতা ও প্রযোজক আদনানের সঙ্গে, যিনি ক্যামেরার পেছনে গল্পে প্রাণ দেন। কয়েক মুহূর্তের প্রথম দেখা একজন আরেকজনের হৃদয়ের কাছাকাছি নিয়ে আসে, যা বন্ধুত্বের ভিত্তি তৈরি করে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রেমে রূপ নেয়, আর এখন তাঁরা পুরোপুরি সংসারী। সোশ্যাল মিডিয়ার গুঞ্জন তাঁদের সম্পর্ককে স্পর্শ করতে পারেনি; বরং একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং পাশে থাকার অনুভূতি দৃঢ় করেছে। নাটক ও চলচ্চিত্রের ব্যস্ততা, শুটিংয়ের তাড়া—এসবের মধ্যেও তাঁরা একে অপরের সান্নিধ্যে জীবনের মুহূর্তগুলো উপভোগ করেন।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ভালোবাসা দিবসে মেহজাবীন ও আদনান বিয়ের সম্পর্কে জড়ান। ১৩ বছরের বন্ধুত্ব ও প্রেমের পর আজ তাঁরা একসঙ্গে। এরই মধ্যে বৈবাহিক জীবনের এ বছর পূর্ণ করলেন তাঁরা।
প্রথম দেখার গল্পটা এভাবেই বলেছিলেন মেহজাবীন ও আদনান। লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টারের মুকুট জয়ের পর অভিনয় ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ শুরু করেন মেহজাবীন চৌধুরী। ধীরে ধীরে ব্যস্ততা বাড়ে। অন্যদিকে আদনান আল রাজীবও নির্মাণ, প্রযোজনা—এসব নিয়ে এগোচ্ছিলেন। এমন সময় দুজনের প্রথম দেখা। সেই দেখায় দুজনের মনে গেঁথে থাকার মতো ঘটনা ঘটে।
গল্পটা আদনান শোনালেন এভাবে, ‘আমি একটা বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেছিলাম। আমাদের দেখা হয় সিলন চায়ের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং সেটে। মেহজাবীন গিয়েছিল সিলন ব্র্যান্ডেরই আরেকটি পণ্যের কাজে। আমরা একই মেকআপ রুম শেয়ার করেছিলাম। শুরুতে বিশেষ গুরুত্ব দিইনি। মেহজাবীনকে দেখে মনে হয়েছিল সে বেশ মুডি। সারাক্ষণ মুখটা বাঁকিয়ে ফোনে কিছু টাইপ করছিল আর সে ভেবেছিল আমি বুঝি কোনো নতুন মডেল, যে খুব বেশি কথা বলে। কারণ, আমি ওই দিন সবার সঙ্গে তুমুল আড্ডা দিচ্ছিলাম। যেহেতু কাজ করছি, সেই সুবাদে আমি তখন অমিতাভ রেজার টিমের প্রায় সবাইকে চিনতাম।’
আদনান সবার সঙ্গে হাসি–আড্ডায় মেতে থাকলেও মেহজাবীন ঠিক তাঁর বিপরীত। চুপচাপ, শান্ত স্বভাবের। কারও সঙ্গে মিশতে সময় লাগে, তবে একবার যদি মেশেন, সম্পর্কটা দীর্ঘ পথ পর্যন্ত গড়ায়। মেহজাবীনের কথায় তেমনটাই বোঝা গেল। তিনি বললেন, ‘আমি আসলে আদনানের একদম বিপরীত। কারও সঙ্গে মিশতে আমার অনেক সময় লাগে। সেদিন মেকআপ রুমে অন্যদের সঙ্গে আদনানের অত কথা, মজা করা, জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব নেওয়া—সবই আমার বিরক্ত লাগছিল। ভাবছিলাম, এই ছেলেটা অ্যাক্টিং করতে এসে নিজেকে ডিরেক্টর ভাবছে কেন! আমি তখনো জানতাম না, এই ছেলেটাই ডিরেক্টর আদনান আল রাজীব।’