অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ জোরালো করতে ইসরাইলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্য জেরি ন্যাডলার। তিনি বলেছেন, ইসরাইলের এই পদক্ষেপে ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক দখলকে কার্যত স্থায়ী করে তুলবে।
হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের জ্যেষ্ঠ এই আইনপ্রণেতা বলেন, পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে ইসরাইলের উদ্যোগ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ন্যাডলার বলেন, ‘এসব পদক্ষেপ পুরো পশ্চিম তীরকে কার্যত সংযুক্ত করার (ডি ফ্যাক্টো অ্যানেক্সেশন) শামিল’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ন্যাডলার লিখেছেন, ‘এই ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করলে পশ্চিম তীরে ইসরাইলের সামরিক দখল স্থায়ী হয়ে যাবে এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এমন সিদ্ধান্ত ইসরাইলের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিশ্বজুড়ে বহু দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত জেরি ন্যাডলার সম্প্রতি দেশটির নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনায় মুখর হতে শুরু করেছেন।
গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের জন্য নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। এই পদক্ষেপের ফলে ইসরাইলি সেটেলারদের জন্য নতুন বসতি স্থাপনের জমি অধিগ্রহণ করা আরও সহজ হবে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবৈধ।
এছাড়া সেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর আইন প্রয়োগের জন্য আরও ক্ষমতা পাবেন ইসরাইলিরা। পাশাপাশি ধর্মীয় কিছু স্থাপনা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে পারবে ইসরাইল। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের এলাকায় কার্যক্রম জোরদারও করতে পারবে তারা।
এ ঘোষণার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইসরাইল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এমন খবর আসার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন সংগঠন। এর বিরোধিতা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন মতে, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিম তীর স্থিতিশীল থাকলে ইসরাইলও নিরাপদ থাকে। এটা ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ইসরাইলি পদক্ষেপে সম্মত নন ট্রাম্প।
এদিন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আট দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানায়। দেশগুলো হলো হলো মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলের পদক্ষেপের লক্ষ্য—অবৈধ বসতি স্থাপন আরও পাকাপোক্ত করা। পশ্চিম তীরে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা চাপিয়ে দেয়া।
শীর্ষনিউজ