Image description

‘নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা’র প্রসঙ্গ সামনে এনে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের করা মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস।

 

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আসা ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্যের বিপরীতে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে নিজেদের বক্তব্যে চীন বলেছে, এ বক্তব্য সত্য-মিথ্যাকে গুলিয়ে ফেলেছে এবং এটি সম্পূর্ণভাবে কোনো এক গোপন উদ্দেশ্য হাসিলের অভিপ্রায় থেকে করা হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকালে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ওই সময় তার কাছে মার্কিন সিনেটের শুনানির প্রসঙ্গ টেনে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

জবাবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, শুনানিতে আমি যেমন বলেছিলাম, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশে আমি সব বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখব, সেটা অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকার হোক। এখানে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ততায় ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, সেটা আমি স্পষ্টভাবে তুলে ধরব।

এর প্রেক্ষিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওই মন্তব্য ঘিরে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে একটি বার্তা পাঠায় ঢাকাস্থ চীন দূতাবাস। বার্তায় দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের মন্তব্য ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’। এসব মন্তব্যে ‘শুদ্ধ আর ভুল গুলিয়ে ফেলা হয়েছে’ এবং এর পেছনে সুস্পষ্ট ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ রয়েছে।

চীন দূতাবাসের মুখপাত্র আরও বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর গত ৫০ বছরে চীন ও বাংলাদেশ সবসময় একে অপরকে সমর্থন করেছে, সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতায় যুক্ত হয়েছে। চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে এনেছে এবং ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছে। এই সহযোগিতা আঞ্চলিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক।

গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বার্তা তিনি আরও বলেন, চীন ও বাংলাদেশের সহযোগিতা দুই দেশ ও তাদের জনগণের বিষয়। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কিংবা আঙুল তোলার কোনো সুযোগ নেই। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই এবং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সহযোগিতার পক্ষে সহায়ক এমন কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগ দেয়ার তাগিদ দিতে চাই।