Image description
 

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে গঠিত সম্ভাব্য সামরিক জোটে যোগ দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক স্তরে জল্পনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও ইসলামাবাদের উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক এবং পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের পর নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দিলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতিতে তা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের ২০২৫ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষার নীতির অনুকরণে গঠিত এই কাঠামো জোটকে শক্তিশালী করেছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কও এই জোটে যোগদানের বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনায় রয়েছে। পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী তুরস্ক এবং সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সক্ষমতা মিলিয়ে এটি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক জোট হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

 

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যেই খসড়া প্রতিরক্ষা চুক্তির সঙ্গে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষ করে বিমান বাহিনী প্রধানের পাকিস্তান সফরের সময় ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয় আলোচনা হয়েছে, যা দেশের ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া পাকিস্তান দ্রুত ‘সুপার মুশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সম্ভাব্য জোটের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় ছাড়াও গোপন তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ সামরিক মহড়ার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

 

তবে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যোগদান নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ভারসাম্য রক্ষায় এই জোট গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ দিতে পারে। তবে দেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের সাবধানতা জরুরি।

বাংলাদেশ এই চতুর্মুখী জোটে যোগ দিলে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে একটি নতুন ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতার সূচনা হতে পারে।