Image description

সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক এক পোস্টে নিজেকে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার কয়েকদিনের মাথায় দেয়া এই ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। যদিও ডেলসি রদ্রিগেজ সম্প্রতি দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

 

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট (অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট)’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নিজের সামাজিক মাধ্যমে দেয়া একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন— ‘Acting President of Venezuela, Incumbent January 2026’ (ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে দায়িত্বে)। পোস্টটির সঙ্গে ছিল উইকিপিডিয়ার আদলে তৈরি একটি সম্পাদিত ছবি, যেখানে ট্রাম্পের সরকারি প্রতিকৃতি দেখানো হয় এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে প্রকৃত উইকিপিডিয়া পাতায় ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখানো হয়নি। কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থাও তার এই দাবির স্বীকৃতি দেয়নি।

ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্টটি এমন এক সময়ে দিলেন যখন কয়েকদিন আগেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। মূলত ট্রাম্পের নির্দেশে সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাদক পাচারের অভিযোগে সেখানে তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক তৎপরতার পর এই অভিযান চালানো হয়। মাদুরো দাবি করেছেন, তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে। চীন, রাশিয়া, কলম্বিয়া এমনকি স্পেনও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।

নজিরবিহীন সেই অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং ‘নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা হস্তান্তর’ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। তিনি আরও বলেন, এই অন্তর্বর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির দায়িত্বও যুক্তরাষ্ট্র তদারকি করবে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার ভেতরে মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি মাদুরোর মুক্তি দাবি করেছেন এবং তাকেই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

যদিও ট্রাম্প তাকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে রদ্রিগেজকেও ‘ভয়াবহ মূল্য দিতে হতে পারে’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিণতি মাদুরোর চেয়েও কঠোর হতে পারে। নিউইয়র্কে আটক মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’ ও মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলায় কিছু রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণার কৃতিত্বও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ’ হিসেবে এই মুক্তি দেয়া হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর ‘বড় আকারে’ বন্দিমুক্তি হয়েছে। একইসঙ্গে মুক্তিপ্রাপ্তদের ‘এটা কখনও ভুলে না যেতে’ সতর্ক করে দেন তিনি।

এছাড়া ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বড় তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে দ্রুত দেশটির তেল উৎপাদন বাড়ানো যায়। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, কোন কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় কাজ করবে তা যুক্তরাষ্ট্রই ঠিক করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত তেল খাত পুনর্গঠনে সহায়তা দেবে।

ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সঙ্গে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহের একটি চুক্তিরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই সরবরাহ অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে এবং বাড়তি তেল সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়ক হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থ সুরক্ষায় একটি নির্বাহী আদেশেও সম্প্রতি স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প।