Image description

মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার ইসরায়েল নিয়ে মন্তব্যের জেরে বাহরাইনের বিশিষ্ট বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও বামপন্থী কর্মী ইব্রাহিম শরীফকে সাজার আদেশ দিয়েছেন দেশটির নিম্ন আদালত। ইসরায়েলের সঙ্গে বাহরাইন সরকারের সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্যের অভিযোগে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২০০ বাহরাইনি দিনার (প্রায় ৫৩০ ডলার) জরিমানা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য মতে, গত নভেম্বর থেকে ইব্রাহিম শরীফকে আটক রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়ানো’ এবং ‘ভ্রাতৃপ্রতিম আরব দেশ ও তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৈরুতে লু’আলুয়া টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব দেশগুলোর অবস্থান এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন এ বিরোধী নেতা।

বাহরাইনের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছে, ওই সাক্ষাৎকারে আরব দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র ও যোগসাজশের’ অভিযোগ তোলেন ইব্রাহিম শরীফ এবং জনগণকে সরকারবিরোধী প্রতিরোধে উৎসাহিত করেন।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ এর অংশ হিসেবে বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। তবে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর বাহরাইনে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ দেখা গেছে।

বাহরাইন ইনস্টিটিউট ফর রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসির অ্যাডভোকেসি পরিচালক সাইয়্যেদ আহমেদ আলওয়াদাই এ রায়কে ‘বাহরাইনের জন্য নতুন অধঃপতন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির বিরোধিতা করায় একজন জননন্দিত ব্যক্তিত্বকে দণ্ডিত করা ভয়ংকর দৃষ্টান্ত।

২০১১ সালে আরব বসন্ত নামে বাহরাইনে হওয়া গণ-আন্দোলনের পর থেকে ইব্রাহিম শরীফকে কমপক্ষে দশবার গ্রেফতার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সে সময় তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি সংস্থা (ওয়াদ) এর নেতা হিসেবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

জানা গেছে, ২০১১ সালের পর থেকে বাহরাইনের কারাগারগুলোতে রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট সম্প্রতি এক নথিতে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে।