পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা নিয়ে করা ভারতের মন্তব্য জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান । দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের সূত্র জানায়, ভারতের এই মন্তব্য 'অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত' এবং এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের পরিচায়ক। ইসলামাবাদ ও ঢাকার সম্পর্ক একটি সার্বভৌম বিষয়, যেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন নেই।
ভারতের এই মন্তব্য আসে পররাষ্ট্র দফতের মুখপাত্র রণধীর জেসওয়ালের শুক্রবারের (৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের পর, যেখানে তিনি বলেছেন, 'জে এফ-১৭ থান্ডার ফাইটার জেট কেনার সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আলোচনাকে নয়া দিল্লি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।'
এই মন্তব্যের আগে পাকিস্তান এয়ার ফোর্স প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে জে এফ-১৭ কেনা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সিধু বাংলাদেশকে পাকিস্তান এয়ার ফোর্সের সাম্প্রতিক উন্নয়ন বিষয়ে অবহিত করেন, সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিস্তৃত প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স প্রধান মাহমুদ খান পুরনো বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও এয়ার ডিফেন্স রাডার সিস্টেম একত্রিকরণের মাধ্যমে নজরদারি ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সহায়তা চান। পাকিস্তানের আইএসপিআর জানিয়েছে, এই সফর ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার প্রতিফলন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের দৃঢ়ীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে এবং সামরিক পর্যায়েও একাধিক যোগাযোগ হয়েছে। চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি জে এফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিক আধুনিকায়ন ও অস্ত্র রপ্তানি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজারবাইজান ও লিবিয়ার সঙ্গে বড় অঙ্কের অস্ত্র চুক্তিতেও এই বিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, প্রতিরক্ষা খাতে সাফল্য দেশটির অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
শীর্ষনিউজ