এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের আচরণে ‘ভণ্ডামি’ রয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের পেহালগামে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সন্ত্রাসীদের হামলায় পর্যটক নিহত হওয়ার পরও ভারত ও পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছিল। অথচ এখন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, যা তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।
গত সপ্তাহে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) বলিউড তারকা শাহরুখ খান মালিকানাধীন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) নির্দেশ দেয় চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দিতে। কিছু নেতা, যার মধ্যে কংগ্রেস এমপি শশী থারুরও আছেন, খেলাধুলায় রাজনীতির সংমিশ্রণের বিরোধিতা করেন। এখন ওআইসি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি বাংলাদেশি পেসারকে ফেরত পাঠানো যায়, তবে কেন একই কাজ শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে করা হলো না, যিনি আন্দোলনের মধ্যে দেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন?
এআইএমআইএম প্রধান বলেন, পেহেলগাম হামলার পরও আমরা এশিয়া কাপে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলেছি। তিনি আরও বলেন, একজন বাংলাদেশি নারী ভারতে থাকছেন, তাকেও ফিরিয়ে দিন। তাকে দেশে ফেরাতে কেন বাধা দেয়া হচ্ছে? বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীন এবং পাকিস্তান বাংলাদেশে সক্রিয়, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে তিনি ও তার পরিবার বলেছে, দেশে ফিরলে একটি পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনের অধীনে প্রহসনের বিচার হতে পারে। ভারত এর আগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি তাদের নজরে নিয়েছে। বাংলাদেশি পেসারকে ঘিরে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের স্কোয়াড থেকে তাকে মুক্তি দিতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দলটি একজন বিকল্প খেলোয়াড় নিতে পারে।