Image description
 

বিহারের মধুবনী জেলায় এক মুসলিম শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ বলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গণপিটুনি দিয়ে রক্তাক্ত করলো হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিরা। বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার অংশ হিসেবে তাকে উম্মত্ত জনতা পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অসহায় মুসলিম শ্রমিককে পেটাতে পেটাতে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরায় বর্বর জঙ্গিরা।

ভুক্তভোগী খুরশিদ আলম জানান, ধর্মীয় স্লোগান দিতে অস্বীকার করায় প্রায় ৫০ জনের একটি চরমপন্থী দল তার ওপর হামলা চালায়। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে খুরশিদ বলেন, কাজ করার সময় তিনি যখন পাশের একটি দোকানে গিয়েছিলেন, তখন ঝামেলার সূত্রপাত হয়। তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তি আমার কাছে এসে আমাকে ‘জয় শ্রী রাম’, ‘জয় সীতা রাম’ এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে বলে। আমি তাকে বলি যে আমি ‘ভারত কি জয়’ বলতে পারি।”

খুরশিদের ভাষ্যমতে, ওই ব্যক্তি কথা বিনিময়ের পর চলে গেলেও তার একটি ভিডিও রেকর্ড করেন এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে (ভাইরাল) দেন। খুরশিদ অভিযোগ করেন, “প্রায় এক ঘণ্টা পর সে ফিরে এসে আমাকে হুমকি দেয়। সে বলে, আমি যদি স্লোগান না দিই তবে সে আমাকে তুলে নিয়ে যাবে।”

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন কয়েকজন তাকে শনাক্ত করে ‘বাংলাদেশি’ বলে মারধর শুরু করে। খুরশিদ বলেন, “দিনের বেলা আমি যখন কাজ করতে যাচ্ছিলাম, তখন দুই-তিনজন আমাকে দেখে মারতে শুরু করে। তারা পেছন থেকে আমাকে আঘাত করে এবং বাংলাদেশি বলে অভিযুক্ত করে।”

খুরশিদ অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা তাকে প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ হাঁটিয়ে নিয়ে যায় এবং অবিরাম মারধর করতে থাকে। তিনি বলেন, “ওরা আমাকে হাঁটিয়েছে আর মারধর করেছে। পথে একটি কালী মন্দির ছিল। ওরা বলেছিল সেখানে আমাকে বলি দেবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা তাকে সরাসরি প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছিল। সেই আতঙ্কের মুহূর্ত বর্ণনা করতে গিয়ে খুরশিদ বলেন, “ওরা বলছিল— ‘হাম তুমকো কাট দেঙ্গে’ (আমরা তোমাকে কেটে ফেলব)।”

শীর্ষনিউজ