Image description
 

ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকস্মিক ও শক্তিশালী হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযানের পর একদিকে যেমন নিন্দার ঝড় উঠেছে, অন্যদিকে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো শান্তি ও মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে দেশছাড়া করা হয়েছে।

 

শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) দিনভর বিভিন্ন দেশের সরকার ও নেতাদের দেওয়া প্রতিক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:

ইরান: ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান এই হামলাকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ বলে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।

 

রাশিয়া: মস্কো এই পদক্ষেপকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। রাশিয়ার মতে, আদর্শগত শত্রুতার কারণে কূটনীতিকে বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই অগ্রহণযোগ্য পথ বেছে নিয়েছে।

 

কিউবা ও বলিভিয়া: কিউবা একে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস যুক্তরাষ্ট্রের এই বোমা হামলাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কলম্বিয়া: প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো একে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন এবং বড় ধরনের মানবিক সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন।

স্পেন: স্পেন সরকার দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমনে গণতান্ত্রিক ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের জন্য মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া: এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ইন্দোনেশিয়া সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমন ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম): জার্মানি ও বেলজিয়াম জানিয়েছে তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি কারাকাসে অবস্থানরত ইতালীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ভেনেজুয়েলার নিকটতম প্রতিবেশী ট্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা পার্সাদ-বিসেসর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা এই সামরিক অভিযানের অংশ নন। তিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন খোদ মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা।

সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যুদ্ধে জড়ানোর মতো কোনো জাতীয় স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

সিনেটর রুবেন গালেগো এই যুদ্ধকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এক বছরের কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্ব পুলিশ’ থেকে ‘বিশ্বের বুলি’তে (বিপজ্জনক শক্তি) পরিণত হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা সরকার এই ঘটনাকে ‘চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে জরুরি অবস্থা জারি রেখেছে। বিশ্বনেতারা এখন তাকিয়ে আছেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দিকে, যেখানে এই হামলার আইনি ও মানবিক দিক নিয়ে বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।