Image description

বাংলাদেশসহ তিন প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়মে বিশেষ ছাড়ের কথা জানাল ভারত। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যে ব্যক্তিরা ধর্মীয় নিপীড়ন অথবা নিপীড়নের আশঙ্কায় ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন, তারা এই সুবিধা পেতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করতে হবে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ছাড়ের আওতায় পড়বেন এমন ব্যক্তিরা, যারা বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছেন। এমনকি প্রবেশের সময় বৈধ নথি থাকলেও পরে যাদের নথির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, তারাও এই সুবিধা পেতে পারেন।

তবে ছাড়ের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনও নথি ছাড়াই ভারতে থাকতে পারবেন। ভারতে বসবাস চালিয়ে যেতে হলে তাদের উপযুক্ত শ্রেণির ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।

২০২৫ সালের ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট’-এর ৩৩ নম্বর ধারার অধীনে এই সংশোধনী জারি করেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

এছাড়াও নেপাল ও ভুটানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র সংক্রান্ত নিয়মে বদল আনলো ভারত। স্থলপথ ও আকাশপথে সীমান্ত পারাপারের সময় নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এই ছাড়ের আওতা শুধু ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অন্য দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে লাগবে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা।

 

ভারত থেকে নেপাল বা ভুটান ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে পরিচয়পত্র সংক্রান্ত নতুন নিয়মগুলি জেনে রাখা জরুরি। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (এমএইচএ) অভিবাসন সংক্রান্ত ছাড়ের নিয়মে সংশোধন এনেছে। ৫ নভেম্বর জারি করা এই সংশোধনীতে ভারত, নেপাল ও ভুটানের নাগরিকদের সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র দেখানোর বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম কী বলছে?

২০২৫ সালের ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স (এক্সেম্পশন) অর্ডার’-এ ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন বিধি যুক্ত হয়েছে। সেই অনুযায়ী, ভারতীয় নাগরিকেরা নেপাল বা ভুটানে যাতায়াত করলে কিংবা ওই দুই দেশ থেকে ভারতে ফিরলে নির্দিষ্ট পরিচয়পত্রের মধ্যে যে কোনও একটি দেখাতে হবে। স্থলপথ ও আকাশপথ, দুই ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজনে অভিবাসন আধিকারিকেরা প্রয়োজনীয় তথ্যও চাইতে পারেন।

একই নিয়ম প্রযোজ্য নেপাল ও ভুটানের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও। তাদের ভারত থেকে যাতায়াতের সময় নির্ধারিত পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।

তবে এই নিয়মের সুবিধা শুধুমাত্র ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে যাতায়াতের জন্য। ভারতীয় কোনও নাগরিক নেপাল বা ভুটান হয়ে তৃতীয় কোনও দেশে যেতে চাইলে এই ছাড় কার্যকর হবে না। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যাত্রার জন্য বৈধ পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি ভারত ছাড়ার বা দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অভিবাসন কেন্দ্র ব্যবহার করতে হবে।

নেপাল ও ভুটানের নাগরিকেরা অন্য কোনও দেশে যাতায়াত করলেও বৈধ পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হবে। চিন, ম্যাকাও, হংকং বা পাকিস্তান হয়ে ভারতে প্রবেশ করলে কিংবা ওই দেশগুলির কোনও একটি থেকে ভারতে এলে তাঁদের বৈধ পাসপোর্টের পাশাপাশি ভিসাও থাকতে হবে।

কারা পাবেন বিশেষ ছাড়?

নতুন নির্দেশিকায় কয়েকটি বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি ও ভিসা সংক্রান্ত কিছু ছাড় বহাল রাখা হয়েছে। সরকারি কাজে যাতায়াতকারী ভারতীয় নৌসেনা, স্থলসেনা ও বায়ুসেনার কর্মীরা এই ছাড়ের আওতায় পড়বেন। সরকারি পরিবহণে তাদের সঙ্গে যাতায়াতকারী পরিবারের সদস্যেরাও এই সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়াও ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি বা তার আগে ভারতে আশ্রয় নেওয়া নথিভুক্ত শ্রীলঙ্কার তামিল নাগরিকেরা এই ছাড়ের আওতায় রয়েছেন। সামরিক জাহাজ মেরামতির অনুমতি নিয়ে ভারতে আসা বিদেশি সামরিক জাহাজের কর্মী এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ভারতে প্রবেশ করে কর্তৃপক্ষের কাছে নথিভুক্ত কিছু তিব্বতি নাগরিকের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে।

 

সূত্র: এনডিটিভি