যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন মিশিগানের ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ (Abdul El-Sayed)। এ বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে দেশটির সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হওয়ার নজির গড়েছেন তিনি। মিশিগানে জন্ম নেয়া ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের বাবা-মা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছিলেন। চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার পর রাজনীতিতে আসেন তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-সাইয়েদ মিশিগানের একটি আসনে জয়ী হয়ে অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি ধরে রাখেন। নির্বাচনে তার প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব সীমিত করা এবং সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা চালু করা। তার প্রস্তাবিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল ‘মেডিকেয়ার ফর অল’—সবার জন্য স্বাস্থ্যবিমা নিশ্চিত করার একটি ব্যবস্থা।
চিকিৎসক থেকে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা
আল-সাইয়েদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশিগানেই। তার বাবা মোহাম্মদ মিশরীয় অভিবাসী। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে সর্বোচ্চ সম্মানসহ স্নাতক হওয়ার পর তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রোডস স্কলার হিসেবে পড়াশোনা করেন। পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে দেউলিয়া-পরবর্তী সময়ে বিভাগটি পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন। পরে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবিক ও ভেটেরানস সেবা বিভাগের পরিচালক হন। তার নেতৃত্বে শিশুদের বিনা মূল্যে চশমা দেয়া, স্কুল থেকে সিসা দূর করা এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা ঋণ বাবদ সর্বোচ্চ ৭০ কোটি ডলার মওকুফের কর্মসূচি নেয়া হয়।
নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক
আল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচার ছিল বেশ বিতর্কপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা তার মুসলিম পরিচয় ও আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আনা হয়। তবে আল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার সঙ্গে সংগঠনটির সংশ্লিষ্টতার পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক কংগ্রেস সদস্য ও এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাইক রজার্স। প্রচারে আল-সাইয়েদ স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়কে গুরুত্ব দেন।
তার এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ও আরব-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সিনেটর হিসেবে তার দায়িত্ব শুরু হবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি।
সূত্র: এপি, রয়টার্স ও আল-সাইয়েদের নির্বাচনী ওয়েবসাইট