জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে সাত লাখ ৮০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডার্ম (সামরিক মর্যাদাসম্পন্ন পুলিশ) সদস্য মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নগুলোর সমন্বিত জোটের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্যারিসের বাইরে পাঁচ লাখ থেকে সাত লাখ এবং রাজধানীতে ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন।
উচ্চ বেতন ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবিতে এ আন্দোলনে শ্রমিক, সরকারি কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন শুরু হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বুধবার জানিয়েছেন, গত ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভে যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, এবারও ঠিক একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৬টি সাঁজোয়া যান, প্রায় ১৫টি জলকামান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট বিআরআই, রেইড ও জিআইজিএন সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
নুনেজ বলেন, বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘যতটা সম্ভব নিরাপদ চলাচলের পথ’ নিশ্চিত করাই এ ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েনের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে নগরীর কেন্দ্রসহ স্পর্শকাতর এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্যারিসে বিক্ষোভের রুট নিয়ে আয়োজকদের করা আপত্তি খারিজ করে দিয়েছে প্রশাসনিক আদালত। পুলিশ প্রিফেকচারের নির্ধারিত রিপাবলিক স্কয়ার থেকে নাসিওঁ স্কয়ার পর্যন্ত মিছিলের পথ বহাল রেখেছে আদালত।
এর আগে ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো বাস্তিল স্কয়ার থেকে জাতীয় পরিষদের কাছের কনকর্ড স্কয়ার পর্যন্ত মিছিল করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে রাজধানীতে গত ১৭ অক্টোবরের অস্থিরতা এবং সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে পুলিশ ওই রুটে মিছিলের অনুমতি দেয়নি।
এদিকে, দেশজুড়ে ধর্মঘটের কারণে পরিবহন খাতেও ব্যাপক বিঘ্নের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফ্রান্সের জাতীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএনসিএফ জানিয়েছে, আঞ্চলিক রেল চলাচলে মাঝারি থেকে গুরুতর বিঘ্ন ঘটতে পারে। প্যারিসের আশপাশের কয়েকটি শহরতলির রেলপথেও সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলে তুলনামূলক কম প্রভাব পড়তে পারে। এ রুটে প্রতি ১০টি উচ্চগতির টিজিভি ট্রেনের মধ্যে একটি বাতিল হওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আনাদোলু