ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পুরোনো দিল্লির চাওড়ি বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন তিনতলা একটি ভবন ধসে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে চাওড়ি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে গলি সিতারায় ভবনধসের খবর পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে অন্তত ছয়টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এসব ইউনিটের মধ্যে পানিবাহী গাড়ি ও উদ্ধারকারী যান রয়েছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দীপাবলি উপলক্ষে পুরোনো দিল্লির বাজারগুলোতে যখন ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়, তখন এ দুর্ঘটনা ঘটল। চাঁদনি চক ও চাওড়ি বাজারের মতো পাইকারি বাজারগুলোতে উৎসবকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হচ্ছে।
এদিকে, চাঁদনি চকে ১৬০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহাসিক টাউন হল ভবনের একাংশও ধসে পড়েছে। বুধবার হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (এমসিডি) মালিকানাধীন গ্রেড-১ সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী এই ভবনের সামনের অংশ, প্রথম তলা, ছাদ, মূল প্রবেশপথের বারান্দার দেয়াল এবং এর ওপর স্থাপিত ঘড়িটি ধসে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দিল্লির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এমসিডিরই মালিকানাধীন এই ঐতিহাসিক ভবন।
২০১১-১২ সালে এমসিডি তাদের সদর দপ্তর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে ভবনটি অনেকটাই অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় এর করিডরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে এবং চলাচলের পথগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
এর আগে গত মাসে দিল্লির সীমাপুরি এলাকায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ধসে দুই শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় আহত হন আরও আটজন।
দিল্লিতে ধারাবাহিক ভবনধসের ঘটনায় ভবনের নিরাপত্তা, নির্মাণকাজের তদারকি এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।