পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তিন বোন আটকের ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রসচিব ও কোট লাখপাত কারাগারের সুপারকে তলব করেছেন লাহোর হাইকোর্ট। আটকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাদের বন্দি রাখায় এ আদেশ দেওয়া হয়।
ইমরান খানের তিন বোন—আলিমা খান, নওরিন নিয়াজি ও উজমা খানকে আটকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পিটিশন দায়ের হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পিটিশনের শুনানিতে লাহোর হাইকোর্ট (এলএইচসি) এ তলবাদেশ দেন। আগামী ২৮ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ওই দুই কর্মকর্তাকে সশরীরে হাজির হয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি আবহের গুল খান।
গত সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদের দিকে প্রতিবাদ মার্চের প্রস্তুতি নিচ্ছিল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। সে সময় জননিরাপত্তা বজায় রাখার কথা বলে ইমরান খানের তিন বোনকে আটক করে কর্তৃপক্ষ। ১৯৬০ সালের ‘পাঞ্জাব মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার’ (এমপিও) অধ্যাদেশের অধীনে তাদের লাহোরের কোট লাখপাত কারাগারে ৩০ দিনের জন্য আটক রাখা হয়।
বুধবার আলিমা খানের ছেলে শাহরেজ খান নতুন করে পিটিশন দায়ের করেন। পিটিশনে বলা হয়, আটকের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও ইমরান খানের বোনেরা এখনও কারাগারে বন্দি। বৃহস্পতিবার শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী রানা মুদাসসর উমর আদালতকে বলেন, ‘গত ১৯ ও ২০ অক্টোবর আটকের মেয়াদ শেষ হলেও তাদের মুক্তি দেওয়া হয়নি। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আটকে রাখা বেআইনি।’
পিটিশনে আরও বলা হয়, প্রতিরোধমূলক আটক ব্যবস্থা সাধারণ ফৌজদারি আইনের বিকল্প হতে পারে না। এই আদেশ সংবিধানের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং এমপিও আইনের ৩ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছে। ন্যায়বিচার ও সমতার স্বার্থে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
৭৪ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দুর্নীতি ও সহিংসতায় উসকানি দেওয়াসহ তাঁর বিরুদ্ধে একশর বেশি মামলা রয়েছে। পিটিআই বরাবরই এই মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। তবে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকার বলছে আইন অনুযায়ীই এসব মামলা এবং প্রক্রিয়া চলছে।
তথ্যসূত্র: ডন
