কয়েক দিন ধরেই ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। বিক্ষোভের সময় একাধিকবার পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ অন্য সাংসদেরা।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি তরুণদের সরব উপস্থিতির মধ্যে এবার জ্ঞানেশ কুমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দেশটির ৪২ জন সাবেক বিচারপতি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সিইসির পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন সাবেক বিচারপতিরা।
চিঠিতে আন্দোলনকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি পরিকল্পিত প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তারা। এতে নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের গালিগালাজ, অপমান ও ‘ক্ষমতার হস্তান্তরের পর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি’ দেওয়ারও তীব্র তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
চিঠিতে সাবেক বিচারপতিরা বলেন, ‘এটি স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত একটি পরিকল্পিত অভিযান বলে মনে হচ্ছে, যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার সম্ভাব্য বিধ্বংসী পরিণতির প্রতি সামান্যই খেয়াল রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করা একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু অবমাননা করা নয়।’
তারা আরও বলেন, যেসব আন্দোলনকারী সংগঠনের বেছে বেছে মামলা করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, তারা এসব দাবিকে বৈধতার একটি আবরণ দেয়। তারা একের পর এক আবেদন দাখিল করলেও খুব কমই প্রমাণ উপস্থাপন করে।
বিরোধীদল কংগ্রেসের সমালোচনা করতেও ছাড় দেননি বিচারপতিরা। চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘যে দলটি পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে এই দেশ শাসন করেছে, তারা এখন দাবি করছে যে, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা নির্বাচিত হয়েছে, সেটিই কারচুপিপূর্ণ। তারা একা কাজ করে না। বেছে বেছে মামলা করার দীর্ঘ ইতিহাস থাকা আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো এসব দাবিকে বৈধতার একটি আবরণ দেয়। তারা একের পর এক আবেদনপত্র দাখিল করে। তারা খুব কমই প্রমাণ দাখিল করে।’
এদিকে রাহুল গান্ধী সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনের পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ঘোষণা করেন, বিরোধী দলের নেতারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির জন্য গান্ধী স্মৃতিসৌধের দিকে অগ্রসর হবেন।
রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের বিরুদ্ধেও ‘ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণতন্ত্র হাইজ্যাকের’ অভিযোগ তুলেছেন। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস বলেছে, বিরোধী দল গণতন্ত্র, ভোটার এবং দেশের সাধারণ মানুষকে রক্ষার জন্য লড়াই করছে।
ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলের চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। এদিকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র হত্যা ও ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, সিইসি জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।