Image description

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ডিপফেক থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে তার কণ্ঠস্বরের ট্রেডমার্ক করার আবেদন করেছেন। সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অফিসে (ইইউআইপিও) আবেদনটি করা হয়। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে আবেদনটি পাওয়া যাচ্ছে। মেলোনির কার্যালয়ও আবেদন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আবেদনের অংশ হিসেবে মেলোনি চার সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড করেছেন। এতে তিনি ইতালীয় ভাষায় ‘ইও সোনো জর্জিয়া’, অর্থাৎ ‘আমি জর্জিয়া মেলোনি’ কথাটি দুবার বলেছেন।

এআই প্ল্যাটফর্মের অননুমোদিত ব্যবহার থেকে নিজের পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে ট্রেডমার্ক করার উদ্যোগ নেওয়া মেলোনিই প্রথম নন। জানুয়ারিতে মার্কিন অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহি তার ছবি ও কণ্ঠস্বরের ট্রেডমার্ক করে এ ধরনের উদ্যোগ নেন।

গায়িকা টেলর সুইফটও এপ্রিলে একই ধরনের পদক্ষেপ নেন। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি তিনটি ট্রেডমার্কের আবেদন করেন। এর একটি ছিল তার ‘এরাস ট্যুর’-এর মঞ্চে থাকা অবস্থার একটি ছবি ব্যবহার করে। অন্য দুটি আবেদনে ছিল তার সর্বশেষ অ্যালবামের প্রচারের সময় নিজের পরিচয় দেওয়ার অডিও ক্লিপ।

আগস্টে ৮০ জনের বেশি শিল্পী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের প্রতি আহ্বান জানান, এমন আইন প্রণয়ন করতে যাতে যুক্তরাজ্যের প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের কণ্ঠস্বরের ওপর আইনি মালিকানা থাকে।

অভিনেতা ম্যাট লুকাস, হিউ বনেভিল ও নিকোলা কফলানসহ আরও অনেকে এআইয়ের মাধ্যমে তাদের কণ্ঠস্বর ব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সুরক্ষার দাবি জানান।

বাস্তব মানুষের কণ্ঠের রেকর্ডিং ব্যবহার করে এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে ভয়েস ক্লোন তৈরি করা হয়। কয়েক সেকেন্ডের অডিও দিয়েই দ্রুত একটি কণ্ঠের নকল তৈরি করা সম্ভব। তবে উচ্চমানের নকল তৈরি করতে সাধারণত কয়েক ঘণ্টার রেকর্ডিং প্রয়োজন হয়।

আগামী বছর ইতালির সাধারণ নির্বাচনের আগে মেলোনির কণ্ঠস্বর ট্রেডমার্ক করার এই উদ্যোগ সামনে এল।

‘ইও সোনো জর্জিয়া’ কথাটি মেলোনির ২০২১ সালের আত্মজীবনীর নাম ছিল। তার রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গেও এই বাক্যটি যুক্ত।

২০২৪ সালে মেলোনির ডিপফেক পর্নোগ্রাফিক ভিডিও অনলাইনে প্রকাশের পর তিনি ১ লাখ ইউরো ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন।

ডিপফেক ছবিতে একজনের মুখ ডিজিটালভাবে অন্য একজনের শরীরে বসিয়ে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্টারনেটে ডিপফেক পর্নোগ্রাফি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এর শিকার ব্যক্তিরা এ ধরনের ঘটনার কারণে তাদের ওপর তৈরি হওয়া মানসিক আঘাতের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে মেলোনি ডিপফেকের বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। সে সময় এআই দিয়ে তৈরি তার অন্তর্বাস পরা বেশ কয়েকটি ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মেলোনি বলেন, ‘তবে বিষয়টি শুধু আমাকে নিয়ে নয়। ডিপফেক একটি বিপজ্জনক হাতিয়ার। কারণ এটি যে কাউকে প্রতারিত, প্রভাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আমি নিজেকে রক্ষা করতে পারি। কিন্তু আরও অনেকেই তা পারেন না।’

সূত্র: বিবিসি