বিপুল পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে কিউবার উদ্দেশে যাত্রা করা একটি বড় কার্গো জাহাজ আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কোস্ট গার্ড শুক্রবার জানিয়েছে এ তথ্য। দ্বীপরাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর তেল অবরোধ অব্যাহত থাকার মধ্যেই জাহাজটি আটক করা হলো।
কোস্ট গার্ড জানায়, ‘গ্রেস’ নামের জাহাজটিকে ৫ সেপ্টেম্বর কিউবা ও মেক্সিকোর মধ্যবর্তী ক্যারিবীয় সাগরে আটক করা হয়। কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে জাহাজটি বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছিল। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, জাহাজটির দৈর্ঘ্য ছিল ৩০০ ফুট।
কোস্ট গার্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গ্রেস কিউবার উদ্দেশে যাচ্ছিল এবং জ্বালানি বহন করছিল। জাহাজটি ডার্ক ফ্লিটের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
কোস্ট গার্ডের একটি দল জাহাজটিতে উঠে সেটিকে মেক্সিকো পর্যন্ত নিয়ে যায়। সেখানে মেক্সিকোর নৌবাহিনীর একটি পরিদর্শন দল ‘জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাংকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। জাহাজটিতে বেশ কয়েকটি কনটেইনারও ছিল, যেগুলোতে অবৈধ জ্বালানি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়’।
ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যেই জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য কিউবার সরকার পরিবর্তন করা। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা তেল অবরোধের কারণে দেশটি মারাত্মক চাপে পড়েছে। ব্যর্থ হয়ে পড়া অবকাঠামোর কারণে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎবিভ্রাট আরও তীব্র হয়েছে।
কিউবার ঐতিহ্যগত জ্বালানি সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা ও মেক্সিকো থেকে তেল পাঠানো জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলো কিউবার উপকূলীয় জলসীমায় টহল দিচ্ছে। আর নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির কারণে ট্যাংকারগুলো এমনকি যাত্রা শুরুর আগেই পিছিয়ে যাচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের কমান্ড্যান্ট অ্যাডমিরাল কেভিন লান্ডে বললেন, ‘উন্মুক্ত সমুদ্র আইনহীনতার আশ্রয়স্থল নয়। প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানো ডার্ক ফ্লিটের সদস্যরা বিচার এড়াতে পারবে না।’
‘গ্রেস’ কী পরিমাণ জ্বালানি বহন করছিল বা কর্তৃপক্ষ কীভাবে নিশ্চিত হয়েছিল যে জ্বালানিটি কিউবার উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।