Image description

ইসলামের পবিত্র দুই শহর মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে গত নয় বছরে হুথিরা তিনটি হামলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বরেই দুটি হামলার কথা জানিয়েছে দেশটি। এসব অভিযোগের পর আরব ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্রগোষ্ঠী হুথি। খবর আনাদোলু এজেন্সির

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সর্বশেষ অভিযোগের একটি ঘটনায় মদিনার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্য ঘটনায় মক্কার দক্ষিণে একটি এলাকাকে লক্ষ্য করা হয়। এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কাকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল হুথিদের বিরুদ্ধে।

মক্কায় ইসলামের পবিত্রতম স্থাপনা গ্র্যান্ড মসজিদ ও কাবা শরিফ অবস্থিত। আর মদিনায় রয়েছে মসজিদে নববি। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে হুথি গোষ্ঠী।

জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করার পর সেপ্টেম্বরে হুতিদের হামলা বেড়ে যায়। এরপর সৌদি বিভিন্ন স্থাপনা ও নৌযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে গোষ্ঠীটি।

চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ঘটনায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, হুথিদের একটি ড্রোন মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রকে লক্ষ্য করেছিল। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি জানান, ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে হামলাটি চালানো হয়। এতে একটি ট্রান্সফরমার সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

আল-মালিকি হুতিদের বিরুদ্ধে মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করার অভিযোগ করেন। তিনি ঘটনাটিকে দুই পবিত্র মসজিদকে লক্ষ্য করার চেষ্টায় এই উগ্রপন্থী মিলিশিয়ার ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের অংশ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘তদন্তের ফলাফল, পরিচালনাগত তথ্য এবং হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে হুথি মিলিশিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

হুথিদের প্রতিহত করা এবং মক্কা ও মদিনায় দুই পবিত্র মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, মক্কার দক্ষিণে হুথিদের একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়।

সৌদি আরবের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি ছিল দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তবে হুথিরা ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুথি নেতা আবদুল-মালিক আল-হুথি এবং রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হিজাম আল-আসাদ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

২০১৭ সালের ২৭ জুলাই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মক্কার দিকে যাওয়ার পথে তাইফ প্রদেশের আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি মক্কা থেকে প্রায় ৬৯ কিলোমিটার দূরে থাকতেই ধ্বংস করা হয় এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন হুতিদের বিরুদ্ধে হজ মৌসুম ব্যাহত করার মরিয়া চেষ্টা হিসেবে মক্কার পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল। তবে হুথিরা সেই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করে। তাদের দাবি ছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি মক্কাকে নয়, তাইফের একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।

চলতি সেপ্টেম্বরের মক্কা-সংক্রান্ত ঘটনার পর বিভিন্ন আরব ও মুসলিম দেশ ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে। তুরস্ক, কাতার, মিসর, ইয়েমেন, জর্ডান, মরক্কো, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, বাহরাইন, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, সুদান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশ এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

পাশাপাশি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি), আরব লীগ এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাও (ওআইসি) মক্কাকে ঘিরে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। জিসিসি মহাসচিব জাসেম আলবুদাইভি মক্কাকে লক্ষ্য করার ঘটনাকে মুসলিম বিশ্বের জন্য গুরুতর উসকানি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

পাকিস্তান ও মালয়েশিয়াও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কার কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টার নিন্দা জানিয়ে উত্তেজনা কমাতে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও মক্কার নিরাপত্তা ও পবিত্রতার জন্য যেকোনো হুমকিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সেপ্টেম্বরে বলেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা নিন্দনীয়। তবে মক্কার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করার বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যকে তিনি ‘শুধু একটি দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং কোনো পক্ষকে দায়ী করার ভিত্তি হিসেবে তা ব্যবহার না করার কথা বলেন।