বাল্টিক ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদে সরাসরি হামলা হলে পরমাণু অস্ত্রসহ দেশের মজুত থাকা ‘সব ধরনের অস্ত্র’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইউরোপের কোনো দেশে আক্রমণের পরিকল্পনা নেই মস্কোর। তবে আক্রান্ত হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত থাকার কথাও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোয় ভালদাই আলোচনা ক্লাবের বৈঠকে এসব কথা বলেন পুতিন। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড। সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিকে ঘিরে ন্যাটোর সামরিক তৎপরতা নিয়ে মস্কো ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
পুতিন বলেন, বাল্টিক সাগরে একের পর এক সামরিক মহড়া এবং রুশ জাহাজ আটকের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে। একই সঙ্গে কালিনিনগ্রাদ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যও মস্কোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ওপর সরাসরি হামলা হলে অর্থাৎ কালিনিনগ্রাদ বা অন্য কোনো ভূখণ্ড আগ্রাসনের শিকার হলে হাতে থাকা সব অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অনিবার্যভাবে সামনে আসবে। এটি অনিবার্য।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়া ‘কাউকে হুমকি দিচ্ছে না’। পশ্চিমা নেতারা রাশিয়া ২০২৯ বা ২০৩০ সালে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তারই জবাব দিচ্ছে মস্কো।
চলতি সপ্তাহজুড়ে রাশিয়া অভিযোগ করে আসছে, ন্যাটো কালিনিনগ্রাদকে অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী এই ভূখণ্ডকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হলে প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারেরও প্রস্তুতি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে মস্কো।
যদিও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছে সামরিক জোট ন্যাটো। জোটটি বলেছে, তারা একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। একই সঙ্গে মস্কোকে ‘পারমাণবিক হুমকি’ দেয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বিবিসি বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে পশ্চিমা মিত্রদের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে পোল্যান্ড ও বাল্টিক অঞ্চলে এমন ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
শুধু গত সপ্তাহেই পোল্যান্ড জানিয়েছে, কালিনিনগ্রাদের কাছাকাছি তাদের ভূখণ্ডে একটি রুশ হেলিকপ্টার ঢুকে পড়েছিল। আর লিথুয়ানিয়া জানিয়েছে, রাশিয়ার কারণে তাদের জনগণ ‘নিয়মিত হুমকির মধ্যে’ থাকার অনুভূতি পাচ্ছে। এর একটি কারণ হিসেবে দেশটির আকাশসীমায় রুশ ড্রোন প্রবেশের কথা বলা হয়েছে।