Image description

চীনের সামরিক চাপ মোকাবিলায় নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান হাতে পেল তাইওয়ান। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্ডার করা ৬৬টি এফ-১৬ভি ব্লক-৭০ যুদ্ধবিমানের প্রথম দুটি শুক্রবার (০২ অক্টোবর) তাইওয়ানে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্সের।

কয়েক মাসের বিলম্বের পর বিমান দুটি তাইতুংয়ের ছিহাং বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। তাইওয়ানের পার্বত্য পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে স্থানীয় সময় দুপুরে বিমান দুটি পৌঁছায়। হাওয়াই ও গুয়াম হয়ে এগুলো তাইওয়ানে আসে।

তাইওয়ানের বিমানবাহিনীকে প্রায় প্রতিদিনই চীনের সামরিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও মোকাবিলায় যুদ্ধবিমান পাঠাতে হয়। এর মধ্যেই নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানগুলো দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন। তবে স্বশাসিত দ্বীপটি নিজেদের গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বজায় রেখেছে। তাইপেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্ডার করা বিভিন্ন অস্ত্র সরবরাহে বিলম্বের অভিযোগ করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী।

 

তাইওয়ানে নতুন বিমান পৌঁছানোর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাইপেইকে অস্ত্র সরবরাহে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তা নিয়ে দেশটির মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। যদিও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

 

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু শুক্রবার পার্লামেন্টে সাংবাদিকদের বলেন, শিগগিরই আরও নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান দেশে পৌঁছাবে।

৮ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে লকহিড মার্টিনের তৈরি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান বিক্রির জন্য ৮ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি অনুমোদন করে। সবগুলো বিমান সরবরাহ সম্পন্ন হলে তাইওয়ানের এফ-১৬ বহরে যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ২০০ ছাড়াবে। তবে সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে বিমান সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে।

তাইওয়ানে প্রথম দুটি এফ-১৬ভি পৌঁছানোর ঘটনা ঘটল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটনে বৈঠকের প্রায় এক সপ্তাহ পর।

চীনের সঙ্গে বৈঠকের পর গত মে মাসে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাইওয়ানের জন্য নতুন ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছিলেন।

চীনের সামরিক হুমকি

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, ‘চীন যে শক্তি প্রয়োগ করে তাইওয়ানকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার অভিপ্রায় রাখে, তা কখনো পরিবর্তিত হয়নি।’

নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানগুলো উন্নত এভিওনিকস, অস্ত্র ও রাডার ব্যবস্থায় সজ্জিত। এর ফলে চীনের বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, বিশেষ করে জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের মোকাবিলায় তাইওয়ানের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাইওয়ানকে এফ-২২ বা এফ-৩৫-এর মতো নিজেদের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান সরবরাহে রাজি হয়নি। তাইওয়ানের পুরোনো এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোর আধুনিকায়ন কর্মসূচি ২০২৩ সালে শেষ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তাইপেইয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

বেইজিং বারবার ওয়াশিংটনকে তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান পৌঁছানোর বিষয়ে মন্তব্য জানতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে নতুন যুদ্ধবিমান সরবরাহ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ইন্দো-প্যাসিফিকজুড়ে আমাদের বন্ধু ও মিত্রদের সঙ্গে অভিন্ন সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও মূল্যবোধ এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি; এর মধ্যে তাইওয়ানও রয়েছে।’

সূত্র : রয়টার্স