মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর সঙ্গে সম্মত হওয়া গাজা রোডম্যাপ বাস্তবায়নে প্রস্তুত হামাস। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে পরিকল্পনা ও যুদ্ধবিরতি, দুটিই ইসরায়েল সরকার বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ করেছে গোষ্ঠীটি। বৃহস্পতিবার এ খবর জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, গাজা উপত্যকার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ‘বোর্ড অব পিস’-এর সঙ্গে সম্মত হওয়া রোডম্যাপ বাস্তবায়নে গোষ্ঠীটি ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কাসেম যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রোডম্যাপ পুরোপুরি আটকে দেওয়ার জন্য ইসরায়েল সরকারকে দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘বোর্ড অব পিস’ এবং গাজার জন্য সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলায় ম্লাদেনভকেও চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেন তিনি।
কাসেম সব পক্ষ, বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসন ও বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘কারিগরি কমিটিকে গাজা উপত্যকায় প্রবেশের সুযোগ করে দিতে হবে, যাতে তারা গাজার মানুষের জন্য তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে।’
তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও এর রোডম্যাপ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনেরও আহ্বান জানান।
জুলাইয়ে ‘বোর্ড অব পিস’ ১৫ দফার একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করে। এতে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ, গাজার প্রশাসন ফিলিস্তিনিদের একটি জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
আগস্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোডম্যাপটি প্রত্যাখ্যান করেন। ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে বলে তিনি জোর দেন। এরপর হামাস সম্মত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানায়।
আগস্টের ২৬ তারিখে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দেওয়া ব্রিফিংয়ে ম্লাদেনভ বলেন, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রথমবারের মতো তাদের অস্ত্র হস্তান্তর এবং বেসামরিক ও নিরাপত্তা কর্তৃত্ব ফিলিস্তিনের একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। তিনি নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে পরস্পর সম্পর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। এসব পদক্ষেপের অগ্রগতি যাচাই করা হবে বলেও জানান তিনি।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ফিলিস্তিনিরাই পরিচালনা করবে। অস্ত্র ইসরায়েলের কাছে নয়, ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আলি শা’তের নেতৃত্বে জানুয়ারিতে গঠিত ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ অন্তর্বর্তী সময়ে বিভিন্ন সেবা ও অন্যান্য দায়িত্ব পরিচালনা করবে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করে। এতে গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি কাঠামো অনুমোদন এবং একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর