Image description

সৌদি আরবকে যেকোনো আক্রমণ থেকে রক্ষায় ‘যেকোনো সীমা পর্যন্ত যাবে পাকিস্তান’।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সৌদি সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ শাখার পরিচালক লেফটেনেন্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরি এই মন্তব্য করেন।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আরও বলেন, ‘কূটনৈতিক ও সামরিক দুইভাবেই তাঁর দেশ সৌদি আরবের পাশে আছে।’

আরব নিউজকে শরিফ বলেন, ‘মক্কা ও মদীনার দুই পবিত্রতম ইসলামি স্থান রক্ষার ক্ষেত্রেও পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই এবং যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা সৌদি আরবকে রক্ষা করে যাবেন।’

শরিফ বলেন, ‘সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ শর্তহীন। দুই দেশের জনগণ, সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যকার এক গভীর আবেগময়, ঐতিহাসিক এবং অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক থেকেই আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

আরব নিউজের ভাষ্যমতে, মক্কা চুক্তি সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির সামনে বড় পরীক্ষায় ফেলেছে। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করা। এটি মূলত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’র ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা নিরাপত্তা চুক্তি। যেখানে যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে শরিক দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার কথা। দুটি চুক্তির কোনোটিরই পূর্ণাঙ্গ পরিচালন পদ্ধতি বা শর্তাবলী প্রকাশ্যে আনা হয়নি। যার ফলে কোনো আক্রমণে ঠিক কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

সংবাদসংস্থা এপি বরাতে আরব নিউজ আরও জানায়, হুতিদের হামলার কারণে ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রসদে টান পড়ায় সৌদি আরব সাহায্য চেয়ে পাকিস্তান, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও মিসরসহ বেশ কয়েকটি মিত্র দেশের দ্বারে কড়া নেড়েছে। তবে সৌদি আরবের এই সাম্প্রতিক অনুরোধের জবাবে কোনো দেশই এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র শরিফের মন্তব্যকে ‘স্পষ্ট অবস্থান’ হিসেবে দেখছে আরব নিউজ। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, আগের সপ্তাহে করা ইসলামাবাদ-এর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের চেয়েও বেশ কড়া ভাষায় অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শরিফ। এর আগে তাঁর দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পাকিস্তান, সৌদি আরব বা তুরস্কের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার বিধান থাকা সত্ত্বেও 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'র অধীনে এখনই কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। তবে ‘সময় এলে’ পাকিস্তান ব্যবস্থা নেবে।