Image description

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতি শেষে ডাকাতদল প্রবাসীর ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে রেখে সামনেই তার মাকে (৩২) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে।  

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার একটি ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ এক জনকে আটক করেছে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে তাহের উদ্দিনের ছেলে শরীফ (২৩), আরিফ (২১), মমিনের ছেলে ফাহিম (২২) ও মোফাজ্জলের ছেলে রাজিব (২৩), নূরুল ছেলে এনামুল (২২) এলাকায় চিহ্নিত বখাটে ও মাদকাসক্ত। এই পাঁচ জন সশস্ত্র যুবক একই এলাকার প্রবাসীর অর্ধেক নির্মাণ করা বাড়িতে প্রবেশ করে প্রবাসীর ছেলের কাছে পানি চায়। 

প্রবাসীর ১৪ বছর বয়সী ছেলে জগ ও গ্লাস ভর্তি পানি নিয়ে দরজার কাছে আসা মাত্রই ডাকাত দল প্রবাসীর ছেলেকে ধরে ঘরের দরজার কাছেই একটি গাছে বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে প্রবাসীর স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে বাড়ি নির্মাণের খরচ বাবদ আলমারিতে রাখা নগদ পাঁচ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিপত্র লুটে নেয়। 

জিনিসপত্র লুটের পর ডাকাত দলের সদস্যরা ঘরের দরজার সামনে বেঁধে রাখা ছেলের গলায় চাপাতি ধরে জিম্মি করে তার মাকে দরজার সামনে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। রাজিব নামের ডাকাত দলের সদস্য ভিডিও ধারণ করে। তাদেরকে হুমকি দেয়, আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা না দিলে এবং এই ঘটনা প্রকাশ করলে ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করে দেওয়া হবে।

 

ডাকাতদল চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে এবং গফরগাঁও থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে অভিযানে বের হয়। পরে শুক্রবার বিকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নির্জন স্থানে অভিযুক্তদের ঘেরাও করে। অভিযুক্ত চার জন পালিয়ে গেলেও রাজিব ডাকাতকে পুলিশ আটক করে। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করা মোবাইলটি রাজিব পানিতে ফেলে দিলে থানা পুলিশ পানি থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করে।

গফরগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান শেখ জানান, এ ঘটনায় রাজিব নামে এক জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলমান। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই বাকি আসামীদের আইনের আওতায় আনা হবে।