Image description

পাকিস্তানের অনুরোধে কাবুলে তুরস্ক ও কাতারের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সফর করেছেন। এ সময় বৈরী হয়ে ওঠা ইসলামাবাদ ও তালেবানের সম্পর্কই তাদের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন তালেবানের এক কর্মকর্তা ও গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন এবং কাতারের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব হামাদ বিন খামিস আল-কুবাইসির বৈঠকগুলোতে তালেবান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনাই ছিল মূল আলোচনার বিষয়।

কাবুলে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওই দুই কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি, গোয়েন্দাপ্রধান আবদুল হক ওয়াসিক এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ।

তালেবানের পক্ষ থেকে বৈঠকগুলো নিয়ে প্রকাশিত বিবৃতিতে পাকিস্তানের অনুরোধে এই সফর হয়েছে—এমন কোনো কথা প্রকাশ্যে বলা হয়নি। তালেবান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সফরের সময় কান্দাহারেও যান কালিন বলে সফরটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। আমু টিভিকে সূত্রগুলো জানায়, সেখানে তিনি কান্দাহারের গভর্নর মোল্লা শিরিন আখুন্দ এবং তালেবান নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন। কালিন সরাসরি আখুন্দজাদার সঙ্গে বৈঠক করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কার্যক্রম চালাচ্ছে, ইসলামাবাদের এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও তালেবানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যেই এই সফর হলো।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ওয়াহিদ ফকিরি বলেছেন, তুরস্ক ও কাতার এর আগেও তালেবান ও পাকিস্তানের বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে।

ফকিরি বললেন, ‘আফগানিস্তান ও পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যকার সংঘাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাতার ও তুরস্ক সক্রিয় ছিল।’ তিনি জানান, আগের উদ্যোগগুলো কোনো ফল আনতে পারেনি। তবে দেশ দুটি মনে করছে, আবারও মধ্যস্থতার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আফগানিস্তানের সাবেক কূটনীতিক মোহাম্মদ আফজালি বলেছেন, তুরস্ক ও কাতার এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে রয়েছে, যাদের সঙ্গে তালেবানের যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে গোষ্ঠীটির ওপর প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে দেশ দুটির।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসলামাবাদ ও তালেবানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে চীন, তুরস্ক ও কাতারের আগের উদ্যোগগুলো কোনো ফল আনতে পারেনি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সর্বশেষ বৈঠকগুলো থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে বিরোধ মেটানোর প্রচেষ্টায় তুরস্ক ও কাতার আবারও ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে কোনো দেশই প্রকাশ্যে এই সফরকে পাকিস্তানের অনুরোধে পরিচালিত মধ্যস্থতার উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেনি।

 

সূত্র: আমু টিভি