নেপালে রাজ্যের দুঃখের মধ্যে বড় আনন্দ হয়ে ধরা দিল সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের দুজনকে উদ্ধারের ঘটনা। যেন নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফেরা! দুজনের একজন কবির মহার্জন। তিনি ত্রিশূলী-৩এ হাইড্রোপাওয়ার প্ল্যান্টের যান্ত্রিক বিভাগের সুপারভাইজার। তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে জেনে আনন্দে ভাসছে পুরো পরিবার।
আজ শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে উদ্ধার করা হয় এ শ্রমিককে। এ খবর পাওয়ার পর তার ভাই আমির মহার্জন জানিয়েছেন, ‘আমার ভাইকে জীবিত পাওয়া গেছে এটা খুবই খুশির খবর।’
‘আমার এখন অনেক হালকা লাগছে’, যোগ করেন আমির।
ভাই জীবিত উদ্ধার হওয়ায় পরিবারে খুশির জোয়ার বইছে বলে জানান তিনি। বললেন, ‘আমাদের পুরো পরিবার খুবই খুশি।’
কবির মহার্জনের স্ত্রী হীরাশোভা বিবিসি নেপালকে জানিয়েছেন, তার স্বামীকে জীবিত খুঁজে পাওয়ায় তিনি কতটা খুশি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না।
তিনি বললেন, ‘আমি ফেসবুকে ছবিগুলো দেখেছি। খুবই খুশি লাগছে।’
‘আমরা ১০ দিন ধরে ঠিকমতো খেতে পারিনি। আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম। এখন আমরা সবাই খুশি। আমরা কাঁদছিও’, যোগ করেন হীরাশোভা।
এদিকে ওই সুড়ঙ্গ থেকে আরও মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
আজ শুক্রবার সকালে দুজনকে জীবিত তুলে আনার পর সুড়ঙ্গ থেকে শ্রমিকদের উদ্ধারের পথ খুলল। ধারণা করা হচ্ছে, বিভিন্ন বিদ্যুৎপ্রকল্পের সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিক আটকে আছেন।
ওই সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার হওয়া অন্য শ্রমিক হচ্ছেন— যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ।
নেপাল বিদ্যুৎ সংস্থার (এনইএ) কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, উদ্ধারের পর তাদের হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের হাত ও পায়ে আঘাত রয়েছে। সম্ভবত টানেলের ভেতর দিয়ে হামাগুড়ি দেওয়ার কারণে তারা এ আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন। তারা অক্সিজেনের অভাবে ভুগছেন।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সুরেশ রাউত বিবিসিকে বলেছেন, তাদের ধারণা অনুযায়ী টানেলটির ভেতরে আরও ৩৯ শ্রমিক রয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির আইনপ্রণেতা ও প্রকৌশলী শ্রী রাম নেউপানে গত ২৬ আগস্ট বন্যা আঘাত হানার পর থেকে উদ্ধার অভিযানে যুক্ত রয়েছেন। তিনি জানান, দুই শ্রমিকের জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় টানেলের ভেতরে আটকে থাকা অন্যদেরও উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যের বরাতে শ্রী রাম নেউপানে জানান, প্রথমে সঞ্জয় সাহকে উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা হয় কবির মহার্জনকে।
এর আগে উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কথা শুনতে পান। এরপর সেখানে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়।
কথা শোনার পর নেপাল সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী তাদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করে।
নেউপানে বলেছেন, ‘উদ্ধারকারী দল ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেছিল, আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।’ ভেতর থেকে জবাব আসে, ‘ঠিক আছে।’
পরে তিনি জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে একাধিক ব্যক্তি আটকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকারীরা।
২৬ আগস্ট আকস্মিক বন্যায় ত্রিশূলী নদীর উপত্যকা প্লাবিত হয়। এতে নেপালে ১ হাজার ২৫২ জন নিহত হন। এ ছাড়া চীনের তিব্বতে নিহত হন ২১ জন। বন্যায় নেপালে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা। এরপর থেকে দুর্গম পরিস্থিতির মধ্যেই টানেল ও বিভিন্ন স্থাপনায় আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।