Image description

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে যেন হঠাৎ নেমে এসেছিল ভয়ংকর দানব। পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদা, পাথর আর পানির প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে ভাসিয়ে নেয় বাড়িঘর, গাড়ি ও সড়ক। মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছিল। কেউ আশ্রয় নিয়েছিলেন গাছের ওপর। কেউ আবার বহুতল ভবনের ছাদে উঠে বাঁচার চেষ্টা করেছেন। তারপরও ভয়াবহ এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৩৫৯ জনে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে এই সংখ্যা জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। তবে সীমান্তের ওপারে তিব্বতে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ফলে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় মৃতের মোট সংখ্যা অন্তত ৩৬২ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এখনো নিখোঁজ রয়েছে প্রায় এক হাজার মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

কীভাবে ঘটল এত বড় বিপর্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ের পেছনে ছিল হিমবাহ ধসে পড়া। প্রথম দিকে ঘটনাটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প বলে ধারণা করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পরে কাছাকাছি ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য, দীর্ঘমেয়াদি ভূকম্পন তরঙ্গ ও স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনো ভূমিকম্প ঘটেনি। বরং একটি হিমবাহ ধসে পড়ে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিপুল পরিমাণ কাদা ও পাথরের স্রোত। সেই স্রোত নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

ভোটে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর পথ ধরে পানির সঙ্গে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নেমে আসে। পরিবেশের ইতিহাসবিদ রুথ গ্যাম্বল ঘটনাটিকে ‘অভ্যন্তরীণ সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তার কথায়, ভোটে কোশি উপত্যকা ধরে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই কাদা ও পানির ঢল মধ্য নেপালের দিকে ছুটে যায়।

হাজারও মানুষ এখনো নিখোঁজ

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা যখন ২৭৩ ছিল, তখন ৮২৩ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে ছিলেন ৫৭৯ জন নেপালি ও বিদেশি পর্যটক।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিক ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তবে পরে উদ্ধারকারীরা নেপালে প্রায় ১০০ ভারতীয় পর্যটক এবং ২৫ জন চীনা শ্রমিককে খুঁজে পান।

চীনের তিব্বতেও শত শত মানুষ নিখোঁজ বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, তিব্বতে নিখোঁজ ৫৫৮ জনের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি।

কোন দেশের কত পর্যটক নিখোঁজ

নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, দুই ডজনের বেশি দেশের পর্যটক নিখোঁজ।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন। এছাড়া মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটকরাও নিখোঁজদের তালিকায়।

হিমালয়ান গ্লেসিয়ার নামে একটি ট্রেকিং কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের একটি দলের ৪৭ জন এখনো নিখোঁজ। তাদের মধ্যে দুজন শিশুও রয়েছে।

কোম্পানিটির পরিচালক সংকেত পাণ্ডে বলেন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যেখানে নেওয়া হচ্ছে, সেসব হাসপাতালেও তাদের দল খোঁজ চালাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: এএফপি