Image description

আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় তিনি নিজেও যুক্ত আছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে এখনই চুক্তি হয়েছে, এ কথা বলতে চাই না। তবে আমরা ভালো অবস্থায় আছি। খুব শিগগিরই এটি হতে পারে।’ খবর আল জাজিরার।

ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে প্রণালিটি এক ধরনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অবরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের পক্ষ থেকে যেকোনো সময় গুলি ছোড়া বা সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। একটি মাইনও যদি পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে, তাহলে বিলিয়ন ডলার মূল্যের জাহাজগুলো সেখানে চলাচল করতে চাইবে না।

সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি সরাসরি আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগও নাকচ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দেশটির কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এসবের মজুত আছে। প্রয়োজন হলে সেগুলো ব্যবহার করা যাবে। তার দাবি, এ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র খুবই শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তার বিশ্বাস যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে। ইরান আর বেশিদিন এ পরিস্থিতি টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। জবাবে তেহরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে।

এর আগে গত জুন মাসে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার প্রশ্নে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা পরে স্থবির হয়ে পড়ে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানে ‘খুব কঠোর’ হামলা চালানোর হুমকি দেন। তখন তিনি বলেন, প্রয়োজনে দেশটির জ্বালানি স্থাপনা, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হতে পারে। পরে তিনি জানান, ইরান আলোচনায় ফিরতে রাজি হওয়ায় তিনি হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারসেপ্টর ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া ওই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি কারণ ছিল।