Image description

সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ন্যাশনাল স্কিলস সার্টিফিকেট (এনএসসি)-কে ৫৯টি পেশায় সরাসরি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। এটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় দক্ষতা সনদধারী বাংলাদেশি কর্মীদের সৌদি আরবে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় দফায় দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় (স্কিল ভেরিফিকেশন) অংশ নিতে হবে না। এতে বিদেশগামী কর্মীদের সময় ও ব্যয়—দুটিই কমবে। 

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন বাংলাদেশের এনএসসি সনদকে সরাসরি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতে বিদেশগামী কর্মীদের একই দক্ষতার জন্য দ্বিতীয়বার মূল্যায়নের প্রয়োজন হবে না।

একজন কর্মী যদি ইতোমধ্যে এনএসডিএর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় দক্ষতা সনদ অর্জন করে থাকেন, তাহলে একই দক্ষতার জন্য আবার আলাদা পরীক্ষা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। তাকামুলের কাছে বাংলাদেশ প্রস্তাব দিয়েছে, জাতীয় দক্ষতা সনদধারী কর্মীদের ক্ষেত্রে শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেই সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক— নাজনীন কাওসার চৌধুরী

তিনি জানান, গত বছরের নভেম্বরে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত একটি মানবসম্পদবিষয়ক প্রদর্শনীতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পাশাপাশি তিনি সৌদি ন্যাশনাল কমিটি অব ওয়ার্কার্স কমিটিজের (এসএনসিডব্লিউসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়। সৌদি আরবের চাহিদা থাকা ৬৫টি পেশার মধ্যে ৫৯টির জন্য ইতোমধ্যে এনএসডিএ কারিকুলাম তৈরি করেছে এবং এসব পেশায় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এনএসসি সনদ থাকলেও কর্মীদের আবারও স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রামের (এসভিপি) আওতায় দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সৌদি প্রতিষ্ঠান তাকামুলের সঙ্গে সমন্বয় করে এই মূল্যায়ন পরিচালিত হয়।

ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরীর মতে, একজন কর্মী যদি ইতোমধ্যে এনএসডিএর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় দক্ষতা সনদ অর্জন করে থাকেন, তাহলে একই দক্ষতার জন্য আবার আলাদা পরীক্ষা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। তাকামুলের কাছে বাংলাদেশ প্রস্তাব দিয়েছে, জাতীয় দক্ষতা সনদ (এনএসসি)ধারী কর্মীদের ক্ষেত্রে শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেই সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক। এতে এনএসসি সনদধারী বাংলাদেশি কর্মীদের বিদ্যমান দ্বৈত দক্ষতা যাচাই (ডাবল ভেরিফিকেশন) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। তবে এনএসসি সনদবিহীন কর্মীদের জন্য এসভিপির মূল্যায়ন চালু রাখা যেতে পারে। 

তিনি জানান, এ প্রস্তাবের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। ইতোমধ্যে তাকামোলের সঙ্গে চার দফা আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (বিএমইটি) নিবন্ধিত ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে এসভিপির দক্ষতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে সৌদি আরবের চাহিদার তুলনায় এই সংখ্যা যথেষ্ট নয়। তাকামুল প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার দক্ষতা মূল্যায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তাই আরও বেশি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে এ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

এনএসডিএ নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, রমজান ও হজ মৌসুমের কারণে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। শীঘ্রই সৌদি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সেন্টার অব এক্সেলেন্স এবং কয়েকটি স্কিলস ট্রেনিং প্রোভাইডার (এসটিপি) পরিদর্শন করবে। সেই পরিদর্শনের পরই প্রস্তাবটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। আমি আশাবাদী, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সৌদি শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের প্রবেশ আরও সহজ হবে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এনএসডিএ জানায়, বিদেশের দক্ষ শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পাঁচ দেশের চাহিদার ভিত্তিতে ছয়টি দক্ষ পেশার জন্য নতুন কারিকুলামও তৈরি করা হয়েছে। এনএসডিএ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, জাতীয় দক্ষতা ধারীদের ৭৩ শতাংশ বর্তমানে চাকরি বা আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত। এর মধ্যে ৮ শতাংশ বিশ্বের ৭২টি দেশে কর্মরত রয়েছেন। 

প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত দ্বৈত দক্ষতা যাচাই ব্যবস্থা বাতিল হতে পারে। এতে বাংলাদেশি কর্মীদের অতিরিক্ত পরীক্ষা, সময়ক্ষেপণ ও আর্থিক ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মী রপ্তানির প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও গতিশীল হবে।