Image description

ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও মার্কিন বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশ দুটি।

একই দিনে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ‘আকস্মিক’ একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। তবে এটি তেহরানের ‘প্রতিশোধমূলক’ নাকি ‘আগাম প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা ছিল, সে বিষয়ে আইআরজিসি কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। খবর আলজাজিরা, আনাদোলু ও রয়টার্সের।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে সমন্বয় করে ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ‘নির্ভুল হামলা’ চালানো হয়েছে। রিয়াদের দাবি, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নির্দেশে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও রিয়াদের তেল স্থাপনায় ৩০টির বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ‘আত্মরক্ষার অধিকার এবং জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে ইরাকের ভূখণ্ডে অবস্থানরত মিলিশিয়াদের লক্ষ্যবস্তুতে যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি আরব উত্তেজনা চায় না। তবে আমাদের ওপর যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।’

অন্যদিকে সেন্টকম জানায়, সৌদি বাহিনীর সঙ্গে পরিচালিত অভিযানে পূর্ব ইরাকে ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর একাধিক অস্ত্রভাণ্ডার ও রসদকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এসব গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও স্থাপনার ওপর ৬০০টির বেশি হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। আইআরজিসি ও তাদের মিত্রদের এসব হামলা বন্ধ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সেন্টকম।

তবে ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ সৌদি আরবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার সঙ্গে তারা জড়িত নয়।

আর পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, উত্তর ইরাকের নিনেভেহ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় তাদের ৮ সদস্য নিহত হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেছে, ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের সদর দপ্তরে চালানো এ হামলা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও সরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’। হামলায় তাদের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

সৌদি আরবে হামলা চালানোর অভিযোগ নাকচ করেছে ইরানও। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিকে বলেছেন, ‘সৌদি আরবের লক্ষ্যবস্তুতে অন্য কোনো দেশ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুক্ত করা বড় ধরনের ভুল হিসাব এবং এটি আঞ্চলিক বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচয়।’

এদিকে, একই দিনে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান থেকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ‘আজ (মঙ্গলবার) পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলার উদ্দেশ্যে ইরান থেকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।’

তাদের দাবি, তেহরানের ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।’

এই নতুন সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটল, যখন প্রায় দুই সপ্তাহের টানা সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রেখেছিল। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল।

একই সময়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এর মধ্যেই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটল।