ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে তিন নারী আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেন, ‘আল্লাহ আমাকে এ কাজের নির্দেশ দিয়েছেন।’ তবে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নয় ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৭ জুলাই) প্যারিসের পোর্ত দ্য ক্লিশি এলাকার টু ডোমস ব্রুয়ারির কাছে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৩১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ছুরি নিয়ে তিন নারীকে আক্রমণ করেন। আহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।
ফরাসি দৈনিক লে ফিগারো জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাকে আটকানোর পর তিনি বলেন, ‘এটি আল্লাহর নির্দেশ ছিল।’ তবে পুলিশ সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, সন্দেহভাজনের মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ঘটনাটিকে ইসলামি জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করলেও ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না, কারণ অভিযুক্তের বক্তব্য ছিল ‘অসংলগ্ন’।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারী ‘আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন’ বলার পর একজন তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আল্লাহ বলে কিছু নেই, ভাই।’ আরেকজন তাকে ধরে রাখতে অন্যদের আহ্বান জানান। ভিডিওতে একজন নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘সে এখানে আমার বান্ধবীকে ছুরিকাঘাত করেছে।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এমন ভিডিও যাচাই করেছে, যেখানে দেখা যায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি দুই হাতে দুটি ছুরি নিয়ে অন্তত একজন নারীকে আঘাত করছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আহত তিন নারীর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং অপরজনের অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।
এদিকে ইউরোপে সাম্প্রতিক কয়েকটি সহিংস ঘটনার ধারাবাহিকতায় এ হামলার ঘটনা ঘটল। গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ক্ল্যাফামে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া জার্মানির বার্লিনে একটি প্রাইড প্যারেডে গাড়ি তুলে দেওয়ার ঘটনায় একজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হন। পরে জার্মান পুলিশ সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে।
তবে প্যারিস, লন্ডন ও বার্লিনের সাম্প্রতিক এসব হামলার সন্দেহভাজনদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
