Image description

ভবিষ্যতের মহাকাশে অপরাধ তদন্তে রোবট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত ডিজিটাল ইমেজিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেখানে প্রচলিত ধারায় তদন্ত জটিল হবে। তারপরও এসব প্রযুক্তি ব্যবহার না করলে তদন্তের ফলাফল পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে। এমনটা বলেছেন বৃটেনের নর্থাম্ব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞানী ও ফৌজদারি আইনজীবী ড. মেহযেব চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন এসব বিষয়ে গবেষণা করছেন। তিনি মনে করেন মহাকাশে ভবিষ্যতে যেসব খুন সহ যেসব অপরাধ ঘটবে তার সমাধান হতে পারে রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। ভবিষ্যতে মহাকাশে মানুষের উপস্থিতি, বসবাস পুরোদমে শুরু হলে সেখানে যেসব অপরাধ ঘটবে- তা এবং তার তদন্ত, সমাধান নিয়ে বিবিসি সায়েন্স বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে ড. মেহযেব চৌধুরী, জ্যাক কোয়ালস্কে, ড. ক্রিস শেফার্ড ও ড. ভ্যালেরি রাইডারের মন্তব্য নেয়া হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে ওই রিপোর্ট।

 

এতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সময় ড. মেহযেব চৌধুরী ‘ম্যাবম্যাট’ নামে একটি বিশেষ রোবট তৈরি করেন। এই রোবট অপরাধস্থলের ৩৬০ ডিগ্রি ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারে, যাতে পরে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ঘটনাস্থল হুবহু পুনর্নির্মাণ করে পৃথিবীতে বসেই তদন্তকারীরা বিশ্লেষণ করতে পারেন। ভবিষ্যতে এমন রোবটে আরও যুক্ত হতে পারে উচ্চ-রেজ্যুলুশনের ত্রিমাত্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং, যা খালি চোখে দেখা যায় না এমন প্রমাণও শনাক্ত করতে সক্ষম। ড. মেহযেব চৌধুরীর বিশ্বাস, ভবিষ্যতের অ্যাস্ট্রোফরেনসিক তদন্তে এমন রোবটই হবে তদন্তকারীদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সহকারী। এখানে ওই রিপোর্টটি তুলে ধরা হলো-

মহাকাশে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। ভবিষ্যতে বেসরকারি মহাকাশ ভ্রমণও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় একটি অদ্ভুত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে- মহাকাশে যদি কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটে, তাহলে তার তদন্ত হবে কীভাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) মতো সীমাবদ্ধ পরিবেশে খুনের রহস্য অনেকটা ক্লাসিক গোয়েন্দা উপন্যাসের মতোই হতে পারে। সেখানে সবাই একই জায়গায় আটকে থাকে, সন্দেহভাজনের সংখ্যা সীমিত এবং বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগও সম্ভব নয়। ১৯৮০ সালে মহাকাশে অবস্থানের সময় সোভিয়েত নভোচারী ভ্যালেরি রিউমিন তার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে লিখেছিলেন, ‘মাত্র ৫ বাই ৬ মিটারের একটি কেবিনে দু’জন মানুষকে দুই মাস আটকে রাখলে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্তই পূরণ হয়ে যায়।’

মহাকাশে ফরেনসিক তদন্তের নতুন চ্যালেঞ্জ

পৃথিবীতে অপরাধ তদন্তে যেসব ফরেনসিক কৌশল ব্যবহার করা হয়, মহাকাশে সেগুলো একইভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। কারণ সেখানে মাইক্রোগ্র্যাভিটি (অতি স্বল্প মাধ্যাকর্ষণ) পরিবেশে রক্ত, তরল বা অন্যান্য প্রমাণের আচরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা এখন ‘অ্যাস্ট্রোফরেনসিকস’ নামে নতুন একটি গবেষণা ক্ষেত্র গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছেন। এর লক্ষ্য হলো মহাকাশে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধ তদন্তের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও পদ্ধতি তৈরি করা।

রক্তের ছিটা কীভাবে বদলে যায়?

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার রোজওয়েল পুলিশ বিভাগের ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন (সিএসআই) ইউনিটের ফরেনসিক গোয়েন্দা জ্যাক কোয়ালস্কে এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন। তার প্রশ্ন ছিল- মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে রক্তের ছিটা কীভাবে পরিবর্তিত হয়? পৃথিবীতে রক্তের ফোঁটার গতিপথ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন আঘাতের দিক, অবস্থান এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি। কিন্তু মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব ভিন্ন হওয়ায় সেই বিশ্লেষণও বদলে যেতে পারে।

‘ভমিট কমেট’-এ প্রথম পরীক্ষা

এই গবেষণার জন্য কোয়ালস্কে সহযোগিতা করেন ইউনিভার্সিটি অব লুইসভিলের মহাকাশ চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. জর্জ প্যান্টালোসের সঙ্গে। তারা একটি বিশেষ গবেষণা বিমান ব্যবহার করেন, যাকে অনেকে ‘ভমিট কমেট’ নামে চেনেন। বিমানটি বারবার ওপরে উঠে এবং দ্রুত নিচে নেমে অল্প সময়ের জন্য মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরিবেশ সৃষ্টি করে। সেই সময় একটি সিরিঞ্জ দিয়ে কৃত্রিম রক্ত কাগজের ওপর ছিটিয়ে দেখা হয়, স্বল্প মাধ্যাকর্ষণে রক্তের ছিটা কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ভবিষ্যতের অপরাধ তদন্ত

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দশকে মহাকাশে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধ সংঘটনের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যাবে না। তাই এখন থেকেই মহাকাশভিত্তিক ফরেনসিক বিজ্ঞান ও তদন্ত পদ্ধতি উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। একদিন যদি সত্যিই শোনা যায়Ñ ‘হাউসটন, উই হ্যাভ এ হোমিসাইড!’- তাহলে সেই রহস্য সমাধানের জন্য বিজ্ঞানী ও গোয়েন্দাদের প্রস্তুতি আজ থেকেই শুরু হয়ে গেছে।

তদন্তে বড় বাধা মাইক্রোগ্র্যাভিটি

ভবিষ্যতে যদি মহাকাশে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটে, তাহলে তদন্তকারীদের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হবে রক্তের দাগ বিশ্লেষণ। কারণ পৃথিবীতে অপরাধ তদন্তে যে পদ্ধতি কার্যকর, মহাকাশে তা অনেকটাই অচল হয়ে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাধ্যাকর্ষণ রক্তের দাগ বিশ্লেষণের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পৃথিবীতে রক্তের একটি ফোঁটা সমতল পৃষ্ঠে পড়লে সেটি ছড়িয়ে পড়ে। সেই ছড়িয়ে পড়ার ধরন বিশ্লেষণ করে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নির্ধারণ করতে পারেন রক্তটি কোন দিক থেকে এসেছে এবং আঘাতের কোণ কত ছিল। কিন্তু মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে এই নিয়ম আর কাজ করে না। গবেষক ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জ্যাক কোয়ালস্কে বলেন, মাধ্যাকর্ষণ না থাকলে রক্তের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে সারফেস টেনশন (পৃষ্ঠটান)। ফলে রক্তের ফোঁটা পৃষ্ঠে ছড়িয়ে না পড়ে ছোট গোলাকার অবস্থায় থেকে যায়। এর ফলে তদন্তকারীরা শুধু ছোট ছোট রক্তের দাগ দেখতে পান, কিন্তু সেগুলো কোথা থেকে এসেছে বা কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা নির্ভুলভাবে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। একজন নভোচারী কি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) মূল মডিউলে আহত হয়েছেন, নাকি কুপোলা অংশে? দেয়ালে লেগে থাকা ক্ষুদ্র রক্তের দাগ সেই প্রশ্নের উত্তর নাও দিতে পারে।

পরীক্ষারও ছিল সীমাবদ্ধতা

গবেষণাটি পরিচালিত হয় বিশেষ গবেষণা বিমান ‘ভমিট কমেট’-এ, যা অল্প সময়ের জন্য মাইক্রোগ্র্যাভিটি তৈরি করে। কিন্তু এই পরীক্ষা সহজ ছিল না। কোয়ালস্কে জানান, মাইক্রোগ্র্যাভিটির পরপরই বিমানটি দ্বিগুণ মাধ্যাকর্ষণের (২জি) অবস্থায় প্রবেশ করে। ফলে তৈরি হওয়া রক্তের দাগ সঙ্গে সঙ্গেই পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং পরীক্ষার ফল আংশিকভাবে নষ্ট হয়। এ ছাড়া বিমানের ভেতরে জায়গা সীমিত থাকায় গবেষকরা কাগজ থেকে মাত্র ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে তৈরি হওয়া রক্তের দাগই পরীক্ষা করতে পেরেছিলেন।

মহাকাশে রক্ত চলে সোজা পথে

পৃথিবীতে রক্তের ফোঁটা মাধ্যাকর্ষণের কারণে বাঁকানো পথে নিচের দিকে পড়ে। কিন্তু মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব না থাকায় রক্তের ফোঁটা সোজা পথে চলতে থাকে এবং কোনো পৃষ্ঠে আঘাত না করা পর্যন্ত একই দিকে এগিয়ে যায়। কোয়ালস্কের ভাষায়, জড়তা রক্তের ফোঁটাকে একই সরল পথে চলতে বাধ্য করে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের দীর্ঘ ও সরু করিডোরের মতো মডিউলগুলোর ভেতরে এই বৈশিষ্ট্য রক্তের প্রকৃত উৎস খুঁজে বের করাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

এখনও অজানা বহু প্রশ্ন

এই গবেষণা মহাকাশভিত্তিক ফরেনসিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হলেও এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। গবেষকেরা জানতে চান- মহাকাশ স্টেশনের ভেতরে অক্সিজেন সরবরাহকারী বাতাসের প্রবাহ কি রক্তের ফোঁটার গতিপথ বদলে দিতে পারে? মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে রক্ত কীভাবে শুকায়? মহাকাশযানের বিশেষ জলবিমুখ (হাইড্রোফোবিক) পৃষ্ঠে রক্তের আচরণ কী রকম হয়?

তদন্ত আরও জটিল হবে

মহাকাশে অপরাধ তদন্ত শুধু রক্তের দাগেই সীমাবদ্ধ নয়। পৃথিবীতে আহত ব্যক্তির রক্ত মেঝেতে জমে যায় বা অপরাধী হাঁটলে রক্তের ফোঁটার একটি ধারাবাহিক পথ তৈরি হয়। কিন্তু মহাকাশে রক্ত নিচে পড়ে জমবে না, আবার চলার সময়ও সেই পরিচিত রক্তের রেখা তৈরি হবে না। ফলে ভবিষ্যতের মহাকাশ গোয়েন্দাদের শুধু প্রচলিত ফরেনসিক পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। মহাকাশের পরিবেশ মাথায় রেখে সম্পূর্ণ নতুন তদন্ত কৌশল ও প্রযুক্তি তৈরি করাই হবে তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

খুনের অস্ত্র খুঁজে পাওয়া কি সহজ হবে?

ধরা যাক, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের দেয়ালে অজ্ঞাত উৎসের রক্ত ছড়িয়ে আছে। এবার মহাকাশ গোয়েন্দাদের পরবর্তী কাজ হবে হত্যার অস্ত্র খুঁজে বের করা। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে গুলি চালানো হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পৃথিবীর মতোই থেকে যাবে। বন্দুকের ট্রিগার চাপার সঙ্গে সঙ্গে চেম্বারের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তৈরি হয় গ্যাস ও রাসায়নিক কণার একটি মেঘ, যাকে বলা হয় গানশট রেসিড্যু। বৃটেনের ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের ফরেনসিক ব্যালিস্টিকস বিশেষজ্ঞ ড. ক্রিস শেফার্ড বলেন, এই কণাগুলো পরে ক্ষুদ্র তরল ফোঁটা ও কঠিন কণায় পরিণত হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বন্দুক, শুটার, ভুক্তভোগী এবং পুরো ঘটনাস্থলই এসব রাসায়নিক প্রমাণে ঢেকে যেতে পারে।

মহাকাশে প্রমাণ মুছে ফেলা আরও কঠিন

পৃথিবীতে কেউ গোসল করে বা পানি ব্যবহার করে অনেক প্রমাণ মুছে ফেলতে পারে। কিন্তু মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীরা সাধারণত স্পঞ্জ ও সাবান দিয়ে শরীর পরিষ্কার করেন। ফলে গুলির অবশিষ্ট রাসায়নিক কণা পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে এসব কণা বাতাসে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকতে পারে। পরে সেগুলো স্টেশনের বায়ু চলাচল ব্যবস্থার মাধ্যমে ফিল্টারে আটকে যেতে পারে। তদন্তকারীরা সেই ফিল্টার পরীক্ষা করে জানতে পারেন- কী ধরনের গুলি ব্যবহার করা হয়েছে, কোন ধরনের অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে, এমনকি কখন গুলি ছোড়া হয়ে থাকতে পারে।

গুলির গতিপথও বদলে যায়

পৃথিবীতে মাধ্যাকর্ষণের কারণে গুলি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বাঁক নেয়। কিন্তু মহাকাশে গুলি একবার ছোড়া হলে তা সোজা পথে চলতে থাকে যতক্ষণ না কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খায়। তবে আইএসএসের মতো সীমিত জায়গায় অধিকাংশ গুলির ঘটনা কাছাকাছি দূরত্বে ঘটবে বলে ধারণা করা হয়। ফলে গুলির গতিপথ বিশ্লেষণে মাধ্যাকর্ষণের অনুপস্থিতি খুব বড় সমস্যা নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুলি সম্ভবত মহাকাশ স্টেশনের অত্যন্ত পুরু দেয়ালে আটকে যাবে অথবা দেয়ালে লেগে প্রতিফলিত হয়ে কেবিনের ভেতরে ভেসে বেড়াতে পারে।

ব্যালিস্টিক ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ থেকে মিলবে সূত্র

পৃথিবীর মতো মহাকাশেও বন্দুকের নলের ভেতরের খাঁজ গুলির গায়ে বিশেষ চিহ্ন তৈরি করবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। এই ব্যালিস্টিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে তদন্তকারীরা নির্দিষ্ট কোনো গুলিকে একটি নির্দিষ্ট অস্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন। তবে একটি বড় সমস্যা রয়েছে। পৃথিবীতে তদন্তকারীরা প্রয়োজনে একই বন্দুক দিয়ে পরীক্ষামূলক গুলি ছুড়ে তুলনা করেন। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কোনো শুটিং রেঞ্জ নেই। ফলে একই পরিবেশে পুনরায় পরীক্ষা চালানো প্রায় অসম্ভব।

মহাকাশে খুনের জন্য বন্দুক কি আদর্শ অস্ত্র?

ড. ক্রিস শেফার্ডের মতে, মোটেও নয়। কারণ বন্দুক ব্যবহার করলে প্রচুর দৃশ্যমান ও রাসায়নিক প্রমাণ থেকে যায়। গানশট রেসিড্যু, গুলির চিহ্ন, ব্যালিস্টিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং বায়ু ফিল্টারে জমে থাকা কণাগুলো তদন্তকারীদের জন্য মূল্যবান সূত্র হয়ে উঠতে পারে। তার কথায়, মহাকাশে কাউকে হত্যা করতে চাইলে বন্দুক সম্ভবত সবচেয়ে বুদ্ধিমান পছন্দ হবে না। কারণ এতে অনেক স্পষ্ট প্রমাণ থেকে যায়। অর্থাৎ, মহাকাশে রক্তের দাগ বিশ্লেষণ কঠিন হলেও বন্দুক ব্যবহার করলে অপরাধীর জন্য পুরোপুরি নিখুঁত অপরাধ করা সহজ হবে না। বরং ভবিষ্যতের ‘অ্যাস্ট্রোফরেনসিক’ বিশেষজ্ঞদের হাতে থেকে যেতে পারে এমন অনেক সূত্র, যা একদিন মহাকাশের প্রথম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সাহায্য করবে।
মহাকাশে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলে শুধু রক্তের দাগ বা গুলির প্রমাণই নয়, ডিএনএ, চুল, তন্তু (ফাইবার) এবং আঙুলের ছাপও হতে পারে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তবে পৃথিবীর তুলনায় এসব প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ হবে অনেক বেশি জটিল।

বন্ধ পরিবেশেই লুকিয়ে থাকবে প্রমাণ

নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের টক্সিকোলজি প্রধান ড. ভ্যালেরি রাইডার জানান, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) একটি সম্পূর্ণ বন্ধ পরিবেশ। ফলে অপরাধস্থল থেকে চুল, পোশাকের সূক্ষ্ম তন্তু বা অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রমাণ বাইরে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এসব প্রমাণ হয় ঘটনাস্থলেই থেকে যাবে, নয়তো স্টেশনের বায়ু ও পানি পরিশোধন ব্যবস্থার ফিল্টারে আটকে যাবে। ড. রাইডারের ভাষায়, এটি একটি বন্ধ ব্যবস্থা হওয়ায় সবকিছু ফিল্টারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। তাই প্রমাণ ধ্বংস বা সরিয়ে ফেলা অনেক কঠিন।

তবে ডিএনএ দ্রুত নষ্ট হতে পারে

ফরেনসিক তদন্তে ডিএনএকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু মহাকাশে সূর্যের উচ্চমাত্রার বিকিরণের কারণে ডিএনএ পৃথিবীর তুলনায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে গবেষণায় আশার খবরও মিলেছে। এক পরীক্ষায় গবেষকরা একটি রকেটের বাইরের অংশে ডিএনএ রেখে সেটিকে মহাকাশে পাঠান। উৎক্ষেপণ, মহাকাশ ভ্রমণ এবং পৃথিবীতে ফিরে আসার পরও সেই ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যদিও তা তীব্র তাপ ও সৌর বিকিরণের মুখোমুখি হয়েছিল।

আঙুলের ছাপ সংগ্রহও সহজ নয়

যদি অপরাধী গ্লাভস না পরে থাকে, তাহলে সে মহাকাশযানের বিভিন্ন পৃষ্ঠে আঙুলের ছাপ রেখে যেতে পারে। পৃথিবীতে তদন্তকারীরা সাধারণত বিশেষ ধাতব বা কার্বন পাউডার ছিটিয়ে আঙুলের ছাপ খুঁজে বের করেন। আবার অনেক সময় গরম আঠার ধোঁয়া ব্যবহার করেও ছাপ দৃশ্যমান করা হয়। কিন্তু মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে এসব সূক্ষ্ম গুঁড়ো বা গ্যাস বাতাসে ভেসে বেড়াবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে কেবিনের ভেতর ছড়িয়ে থাকবে। এতে শুধু তদন্তই নয়, নভোচারীদের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে লেজার স্ক্যানার বা অতিবেগুনি আলো ব্যবহার করে নিরাপদভাবে আঙুলের ছাপ শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে এখনো এই প্রযুক্তির বাস্তব পরীক্ষা হয়নি।

সবাই হতে পারে সন্দেহভাজন

যদি আজই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটে, তাহলে তদন্তকারীরা শুরুতেই বড় সমস্যায় পড়বেন। মাইক্রোগ্র্যাভিটির কারণে বাতাস ও পানির অবিরাম পুনঃচক্রায়ন অপরাধস্থলকে খুব দ্রুত দূষিত করে ফেলতে পারে। অর্থাৎ প্রমাণগুলো এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। তবে আইএসএসে থাকা বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেখানে থাকা বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে গানশট রেসিড্যু বিশ্লেষণ, ম্যাস স্পেকট্রোমিটার দিয়ে বিষাক্ত রাসায়নিক শনাক্ত এবং ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজনের পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে। তবুও চূড়ান্ত বিশ্লেষণের জন্য অধিকাংশ নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে হবে।

ময়নাতদন্তও হবে কঠিন

মহাকাশে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ দেহ কাটা হলে রক্ত ও অন্যান্য শরীরের তরল নিচে পড়বে না; বরং কেবিনের ভেতরে ভেসে বেড়াবে। এতে পুরো মহাকাশ স্টেশন দূষিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। আরেকটি সমস্যা হলো, দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকলে নভোচারীদের হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। ফলে আঘাতের ধরন বদলে যেতে পারে এবং কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা নির্ধারণ করাও কঠিন হতে পারে।

এখনও অজানা অনেক কিছু

নর্থাম্ব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞানী ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ ড. মেহযেব চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে কোনো ঘটনার পর কত সময় পেরিয়েছে, তা নির্ধারণে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও পরিবেশগত নানা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু মহাকাশে এসব পরিবেশগত উপাদান সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে কাজ করে, আবার কিছু উপাদান একেবারেই অনুপস্থিত। ফলে প্রমাণ কত দ্রুত পরিবর্তিত হবে বা নষ্ট হবে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

নতুন যুগের ফরেনসিক বিজ্ঞানের সূচনা

চাঁদ, মঙ্গল কিংবা বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে মানুষের উপস্থিতি যত বাড়বে, ততই ‘অ্যাস্ট্রোফরেনসিকস’ বা মহাকাশভিত্তিক ফরেনসিক বিজ্ঞানের গুরুত্বও বাড়বে। আজ এটি কেবল গবেষণার বিষয় হলেও, ভবিষ্যতে যদি সত্যিই মহাকাশে প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটে, তাহলে সেই রহস্য উন্মোচনে কাজ করবেন এমন একদল বিশেষজ্ঞ, যাদের জন্য পৃথিবীর প্রচলিত ফরেনসিক জ্ঞানই যথেষ্ট হবে না। তাদের তৈরি করতে হবে সম্পূর্ণ নতুন তদন্ত পদ্ধতি- যেখানে অপরাধস্থল হবে পৃথিবীর বাইরে, আর প্রতিটি প্রমাণকে বুঝতে হবে মহাকাশের ভিন্ন ভৌত নিয়ম মেনে।

তদন্তে এআই ও রোবটই হতে পারে ভরসা

মহাকাশে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলোর একটি হবে- মৃত্যু ঠিক কখন ঘটেছে? পৃথিবীতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা মৃত্যুর সময় নির্ধারণে একাধিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ার পর রক্ত শরীরের নিচের অংশে জমা হতে শুরু করে। এই রক্তজমাটের ধরন, শরীরের তাপমাত্রা এবং পচন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর আনুমানিক সময় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। কিন্তু মহাকাশে এসব নিয়ম আর একইভাবে কাজ করবে না।

রক্ত জমবে না, পচনও হবে ধীরগতির

মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা প্রায় শূন্য মাধ্যাকর্ষণে মৃতদেহের রক্ত শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশে জমে থাকবে না। বরং তুলনামূলকভাবে সারা শরীরেই সমানভাবে ছড়িয়ে থাকতে পারে। ফলে ফরেনসিক বিজ্ঞানীরা প্রচলিত পদ্ধতিতে মৃত্যুর সময় নির্ধারণ করতে পারবেন না। আরেকটি বড় সমস্যা হলো দেহের পচন। পৃথিবীতে মৃতদেহ দ্রুত পচতে শুরু করে ব্যাকটেরিয়া, অণুজীব এবং বিভিন্ন পোকামাকড়ের কারণে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অণুজীবের সংখ্যা অনেক কম এবং মৃতদেহ ভাঙার মতো পোকামাকড় প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে মৃতদেহ অনেক ধীরে পচবে, আর মৃত্যুর সময় নির্ধারণও হয়ে উঠবে আরও কঠিন।

অপরাধীর জন্য সুযোগ বাড়তে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে কোনো চতুর অপরাধী নিজের জন্য ভুয়া অ্যালিবাই তৈরি করতে পারে বা নির্দোষ কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করতে পারে।

সবাই সন্দেহভাজন, আবার সবাই তদন্তকারী!

মহাকাশে তদন্তের আরেকটি বড় সমস্যা হলো নিরপেক্ষতা। যদি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে হত্যাকাণ্ড ঘটে, তাহলে শুরুতে সেখানে উপস্থিত প্রত্যেক নভোচারীই হবেন সন্দেহভাজন। অথচ তারাই আবার ঘটনাস্থল সংরক্ষণ, প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রাথমিক তদন্তের একমাত্র ব্যক্তি। এতে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

সমাধান হতে পারে রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

বৃটেনের নর্থাম্ব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞানী ও ফৌজদারি আইনজীবী ড. মেহযেব চৌধুরী মনে করেন, ভবিষ্যতের মহাকাশ তদন্তে রোবট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত ডিজিটাল ইমেজিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এসব প্রযুক্তি ব্যবহার না করলে তদন্তের ফলাফল পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

‘ম্যাবম্যাট’- মহাকাশের ভবিষ্যৎ গোয়েন্দা

২০১৬ সালে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সময় ড. মেহযেব চৌধুরী ‘ম্যাবম্যাট’ নামে একটি বিশেষ রোবট তৈরি করেন। এই রোবট অপরাধস্থলের ৩৬০ ডিগ্রি ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারে, যাতে পরে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ঘটনাস্থল হুবহু পুনর্নির্মাণ করে পৃথিবীতে বসেই তদন্তকারীরা বিশ্লেষণ করতে পারেন। ভবিষ্যতে এমন রোবটে আরও যুক্ত হতে পারে উচ্চ-রেজ্যুলুশনের ত্রিমাত্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং, যা খালি চোখে দেখা যায় না এমন প্রমাণও শনাক্ত করতে সক্ষম। ড. চৌধুরীর বিশ্বাস, ভবিষ্যতের অ্যাস্ট্রোফরেনসিক তদন্তে এমন রোবটই হবে তদন্তকারীদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সহকারী।

অ্যাস্ট্রোফরেনসিকস এখনই জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদি মানব বসতি, চাঁদ ও মঙ্গলে অভিযানের পরিকল্পনা এবং বাণিজ্যিক মহাকাশ ভ্রমণের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধ সংঘটনের সম্ভাবনাও বাস্তব হয়ে উঠছে। এ কারণে এখন থেকেই অ্যাস্ট্রোফরেনসিকস বা মহাকাশভিত্তিক ফরেনসিক বিজ্ঞানে বিনিয়োগ করা জরুরি। ড. মেহযেব চৌধুরীর ভাষায়, এই ক্ষেত্র নিয়ে এখনই নিবেদিত গবেষণা শুরু করা অত্যন্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে ফরেনসিক গোয়েন্দা জ্যাক কোয়ালস্কে বলেন, মানুষ স্বভাবগতভাবেই সহিংসতার প্রবণতা বহন করে। তাই নক্ষত্রের মাঝেও মানুষ যে সম্পূর্ণ অহিংস হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

মহাকাশে ন্যায়বিচারের প্রস্তুতি

আজ পর্যন্ত মহাকাশে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মহাকাশে বসবাস যত বাড়বে, ততই অপরাধের আশঙ্কাও বাড়বে। সেই কারণেই বিজ্ঞানীরা এখনই এমন প্রযুক্তি, তদন্তপদ্ধতি এবং আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে চান, যাতে একদিন যদি সত্যিই পৃথিবীর বাইরে প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটে, তাহলে তার তদন্ত হতে পারে বৈজ্ঞানিক, নিরপেক্ষ এবং নির্ভুল। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের মহাকাশ গোয়েন্দাদের শুধু অপরাধী শনাক্ত করাই নয়, বরং পুরো সৌরজগতেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রবন্ধে উল্লেখিত বিশেষজ্ঞদের পরিচয়

জ্যাক কোয়ালস্কে: জ্যাক কোয়ালস্কে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রোজওয়েল পুলিশ বিভাগের ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের একজন ফরেনসিক গোয়েন্দা। তিনি ফরেনসিক রক্তের দাগ বিশ্লেষণ নিয়ে পিএইচডি গবেষণাও করেছেন। তার গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ফরেনসিক সায়েন্স ইন্টারন্যাশনাল: রিপোর্টস, জার্নাল অব ফরেনসিক সায়েন্সেস ও জার্নাল অব ফরেনসিক আইডেনটিফিকেশনের মতো আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে।

ড. ক্রিস শেফার্ড: ড. ক্রিস শেফার্ড বৃটেনের ইউনিভার্সিটি অব কেন্ট-এর ফরেনসিক ব্যালিস্টিকস (অস্ত্র ও গুলির ফরেনসিক বিশ্লেষণ) বিশেষজ্ঞ। তার গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স অ্যান্ট জাস্টিস: জার্নাল অব দ্য ফরেনসিক সায়েন্স সোসাইটি, ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব লিগ্যাল মেডিসিন এবং জার্নাল অব ফরেনসিক সায়েন্সেস-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নালে।

ড. ভ্যালেরি রাইডার: ড. ভ্যালেরি রাইডার যুক্তরাষ্ট্রের নাসার জনসন স্পেস সেন্টার-এর টক্সিকোলজি (বিষবিজ্ঞান) বিভাগের প্রধান। তার গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্টিফিক রিপোর্টস, ইনহেলেশন টক্সিকোলোজি এবং এরোস্পেস মেডিকেল এসোসিয়েশনের মতো স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক প্রকাশনায়।

ড. মেহযেব চৌধুরী: ড. মেহযেব চৌধুরী বৃটেনের নর্থাম্ব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞানী এবং ফৌজদারি আইনজীবী। তার গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব পুলিশ সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, স্যালুস এবং সায়েন্স অ্যান্ড জাস্টিস-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে।
এই চার বিশেষজ্ঞের গবেষণা ও মতামতের ভিত্তিতেই মহাকাশে সম্ভাব্য অপরাধ তদন্ত বা অ্যাস্ট্রোফরেনসিকস বিষয়ক এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।