একদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন, অন্যদিকে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে বিক্ষোভ— জোড়া আন্দোলনের এই কর্মসূচিতে সোমবার (২০ জুলাই) কার্যত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লি। দুটি পৃথক দাবিতে আন্দোলনকারীরা রাজপথে নামলে বাধা দেয় পুলিশ। ককরোচ জনতা পার্টির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে লাঠিচার্জ ও ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটে, পাশাপাশি কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে চলা মিছিলেও পুলিশি বাধার খবর পাওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বে শত শত মানুষের সমাগমে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। অঞ্চলটিকে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার দীর্ঘ সাত বছর পর এবার নিজেদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু হলো।
মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাধা দিয়েছে। এক্স পোস্টে শেয়ার করা ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, শত শত মানুষ পোস্টার হাতে নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।
ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের রাজ্যের মর্যাদা, অধিকার এবং কেড়ে নেওয়া সম্মান ফিরিয়ে আনার যে সংগ্রাম, এটি কেবল শুরু।’
২০১৯ সালের আগস্ট মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জম্মু ও কাশ্মীরের আংশিক স্বায়ত্তশাসন বা বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেন। একই সাথে রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নিয়ে অঞ্চলটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। এর একটি হলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর ও হিন্দু অধ্যুষিত জম্মু এবং অন্যটি বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ লাদাখ।
ভারত সরকার অবশ্য দাবি করে আসছে, উপযুক্ত সময়ে কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তবে এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
কাশ্মীরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং তার দল জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স অবিলম্বে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানায়। অন্যদিকে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতারা এই বিক্ষোভকে রাজনৈতিক স্টান্ট হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, ওমর আবদুল্লাহ নিজের সরকারের প্রশাসনিক ও শাসনতান্ত্রিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছেন।
ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশ কাশ্মীরের পূর্ণ মালিকানা দাবি করলেও বর্তমানে তারা এটি আংশিকভাবে শাসন করছে।
এদিকে, দিল্লিতে একই দিনে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে কেন্দ্র করেও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির হাজার হাজার সমর্থক সোমবার পার্লামেন্ট ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করেন। এই বিক্ষোভের কারণে দিল্লির রাজীব চকসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সেন্ট্রাল দিল্লির কিছু অংশে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা নেতা অভিজিৎ দিপকে-কে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই আটকের ঘটনার মধ্যে সংগঠনের অন্য দুই নেতা ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী এই বৈঠক শেষে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তারা মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত চিঠি জমা দিয়েছেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ মহলে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন।