ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজধানী দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঘোষিত ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে সংসদ অধিবেশন শুরুর দিনই পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে সিজেপি নেতাকর্মীরা জড়ো হন। অভিযোগ, মিছিল সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এর আগে রবিবার দিল্লি পুলিশ পদযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যন্তর মন্তর এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও আগাম অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের বিক্ষোভ, মিছিল বা সমাবেশ করা যাবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশও নিষিদ্ধ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় দিল্লি পুলিশ আইন মেনে চলার আহ্বান জানালেও বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে যাত্রী প্রবেশ ও ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়।
রাজনৈতিকভাবে নতুন এই দলটির উত্থানও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গত মে মাসে ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রতিষ্ঠা করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিল্পী ও নাগরিক সমাজের একটি অংশের সমর্থন পায়।
এদিকে, গত শনিবার অনশনরত জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী ৫৯ বছর বয়সী সোনম ওয়াংচুককে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে ভর্তি করায় সোমবারের কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। দলটির অভিযোগ, মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষাসহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এসব ঘটনার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করছে তারা।
তবে পুলিশ বলছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অযৌক্তিকভাবে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঢাকাটাইমস