Image description

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় হামলা না চালাতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইরান। হামলা করার আগে ‘কঠোর প্রতিশোধের’ বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছে তেহরান। খবর আরটির।

বৃহস্পতিবার খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতরের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়োনিস্ট রেজিমকে (ইসরায়েল) ভুল হিসাব না করতে সতর্ক করছি। আমাদের দেশকে লক্ষ্য করে যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যে কঠোর প্রতিশোধ নেবে, সেটিও তাদের বিবেচনায় রাখা উচিত।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী তেহরানে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ কূটনীতিকরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আগামীকাল ৪ জুলাই জানাজার মাধ্যমে শুরু হবে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা। ৯ জুলাই নিজ শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

এদিকে নিরাপত্তা শঙ্কায় বাবার জানাজায় অংশ নিচ্ছেন না দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হুমকি এবং নজরদারির ঝুঁকির কারণে মোজতবার এভাবে প্রকাশ্যে অংশ নেওয়া ‘বিপজ্জনক’ হতে পারে।

এর আগে সোমবার সরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেন, ইরানের বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনিও তার বাবার মতো ‘মৃত্যুর জন্য চিহ্নিত’ রয়েছেন। ফলে খামেনির জানাজায় হামলার একটি শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের জনগণ বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেবে তেহরান।

দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের নেতৃত্ব ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের গুপ্ত হত্যা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। সর্বশেষ যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ বহু নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার পরিবারের একাধিক সদস্য ও প্রায় ৪০ শীর্ষ কর্মকর্তা। ইসরায়েল পরবর্তীতে এমন বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেছে যাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এদের মধ্যে ছিলেন ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি।