ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার ৮ দিন পর একজনকে ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনা এমন সময়ে হলো যখন উদ্ধারকারীদের মনোযোগ ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খোঁজার চেয়ে গৃহহীন হয়ে পড়া হাজার হাজার মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার দিকে সরতে শুরু করেছে। খবর আলজাজিরার।
গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে আনুমানিক ৬০ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
ভেনেজুয়েলার সবশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ২৯৫ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ১১ হাজার। তবে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে মৃত্যু এবং উদ্ধার অভিযানে প্রতিকূলতার চরম হতাশার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ৪৩ বছরের নিরাপত্তা প্রহরী হারনান গিলকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকা কাতিয়া লা মার একটি ধসে পড়া সাততলা ভবন থেকে তাকে বের করে আনতে উদ্ধারকারীরা বেশ কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করছিলেন।
তিনদিন আগেই গিলের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। তাঁকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করতে ভেনেজুয়েলা, চিলি, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকোসহ সাতটি দেশের উদ্ধারকারী দল একসঙ্গে কাজ করেছে।
গিলের স্ত্রী গুসবিমার গঞ্জালেস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি অলৌকিক ঘটনা।’
চিলির উদ্ধারকারী দলের নেতা ক্রিশ্চিয়ান ভেরা এএফপিকে জানান, উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত একটি তিন মিটার টানেল বা সুড়ঙ্গ খুঁড়ে গিলকে বের করে আনতে সক্ষম হন। গত কয়েক দিনে তারা একটি হোস পাইপ এবং অক্সিজেন টিউবের মাধ্যমে তাঁকে পানি ও অক্সিজেন সরবরাহ করতে পেরেছিলেন।
তিনি বলেন, গিল ঠিক যে জায়গায় আটকে ছিলেন, সেখানে পৌঁছানো মোটেও সহজ ছিল না।
লা গুয়াইরা রাজ্য থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি জেইন বাসরভি জানান, গিলের উদ্ধার অনেক পরিবারকে আশা দিলেও দেশজুড়ে অগণিত উদ্ধার প্রচেষ্টা ট্র্যাজেডির মাধ্যমেই শেষ হয়েছে।
কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরার অনেক ধসে পড়া ভবনে ইতোমধ্যেই ডি চিহ্ন আঁকা হয়েছ, যার অর্থ সেখানে আর কোনো প্রাণের অস্তিত্ব নেই।
বাসরভি বলেন, ‘মাঠে থাকা একজন অনুসন্ধান ও রেসকিউ বিশেষজ্ঞ আমাদের জানিয়েছেন, এই বিপর্যয়ের পরিধি বিশাল। প্রায় ৫৮ হাজার ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনুসন্ধান করার মতো এলাকা অনেক বেশি। তা ছাড়া ভূমিকম্পের পর অনেক দিন পার হয়ে যাওয়ায় এখন আর কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।’
তিনি যোগ করেন যে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এখন উদ্ধার অভিযান থেকে সরে একটি ভিন্ন ধাপে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, যেখানে মাঠ পর্যায়ে আরও বেশি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হবে।