ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে এক বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দিপকে (যিনি তেলাপোকাপ্রধান হিসেবে পরিচিত)। সমর্থকদের কাঁধে চড়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশের সময় কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়ে উপর্যুপরি চড়-থাপ্পড় মারেন। তবে এই নজিরবিহীন হামলার পরও দমে না গিয়ে মঞ্চে উঠে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাজস্থানের জয়পুরে আয়োজিত ছাত্র ও যুব সমাবেশে সমর্থকদের কাঁধে চড়ে হাত নাড়তে নাড়তে প্রবেশ করছিলেন অভিজিৎ দিপকে। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি ভিড়ের মধ্য থেকে তার ওপর চড়াও হন এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে একের পর এক চড় মারতে থাকেন। এই ঘটনায় সমাবেশস্থলে তীব্র উত্তেজনা ও হাতাহাতির সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জয়পুরের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) রাজর্ষি রাজ বর্মা জানান, হামলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেছেন, হামলাকারীরা ভারতের একটি বড় জাতীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত।
চড় খাওয়ার পর মঞ্চে উঠে সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে অভিজিৎ দিপকে বলেন, "যারা আমার ওপর হামলা করেছে, তাদের ছেড়ে দিন, মারধর করবেন না। আমি দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকারের জন্য আরও দশবার মার খেতে রাজি আছি, কিন্তু কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।"
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, "আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই আমাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরব। আমি মহাত্মা গান্ধী ও ড. বি. আর. আম্বেদকরের আদর্শে বিশ্বাসী। শান্তি ও ভালোবাসা দিয়েই এই লড়াই চালিয়ে যাব।"
মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিনির্ধারকদের তীব্র কটাক্ষ করেন সিজেপি প্রধান। তিনি বলেন, "তারা নিজেরা কখনো স্কুলে যাননি। আপনারা অশিক্ষিত, এ কারণেই কোনো পরীক্ষাই ঠিকমতো নিতে পারেন না। আপনারা একটা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রই ঠিকমতো সামলাতে পারেন না, দেশ কীভাবে সামলাবেন?"
অনলাইন পরীক্ষার সময় ঘন ঘন সার্ভার ডাউন হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "নির্বাচনের সময় কখনো সার্ভার ডাউন হয় না, কিন্তু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়ই যত প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়।" এছাড়া সিবিএসই এবং নিট (NEET) পরীক্ষার নানা অনিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও বোর্ডের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, ক্ষমতাসীনদের সন্তানরা বিদেশে পড়াশোনা করেন বলেই দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ তারা বোঝেন না।
বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য মৌলিক সমস্যা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আগামী ২০ জুন থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দেন অভিজিৎ দিপকে।
এর আগে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
শীর্ষনিউজ