Image description

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সেই চুক্তি সইয়ের আগেই বিশাল অঙ্কের ওই তহবিলের অর্ধেকের বেশি অর্থের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

চুক্তি-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, পাঁচটি অঞ্চলের বিভিন্ন কোম্পানি ইতোমধ্যে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে। সূত্রটি জানায়, ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে প্রস্তাবিত এই তহবিলের লক্ষ্য ইরানে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানকে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চূড়ান্ত চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত তহবিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন বা কার্যকর হবে না।

গত রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশ যুদ্ধের পুরোপুরি বন্ধে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। আগামী শুক্রবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে।

সূত্রটি জানায়, গঠিত হতে যাওয়া তহবিলে কোনো সরকারি অর্থ বা অনুদান থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন কোম্পানি এতে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জ্বালানি, লজিস্টিকস, উৎপাদন শিল্প ও পরিবহন খাতে এসব বিনিয়োগ করা হবে।

রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল তেহরান। কিন্তু ওয়াশিংটন সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে বিকল্প হিসেবে এই বিনিয়োগ তহবিলের ধারণা সামনে আসে।

ঊর্ধ্বতন এক ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, আঞ্চলিক দেশগুলো ঋণের নিশ্চয়তা, ঋণসুবিধা বা সরাসরি অর্থায়নের মাধ্যমে তহবিলে অংশ নিতে পারে। যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মোবারক স্টিল কমপ্লেক্স, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্গঠনে এ অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে, এই তহবিলের সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ মুক্ত করার আলোচনা সরাসরি সম্পর্কিত নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দুটি বিষয় পৃথক আর্থিক প্রক্রিয়ার আওতায় পরিচালিত হবে।

চুক্তির অংশ হিসেবে একটি ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিতকরণ ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবেন তহবিলের প্রশাসকেরা। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিনিয়োগে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণ এবং কঠোর আন্তর্জাতিক তদারকি মেনে নেয়, তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল থেকে সুবিধা পেতে পারে।