Image description

আফগানিস্তানে নারীদের পোশাকের ওপর তালেবানের কড়াকড়ির জেরে পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে একটি বিরল বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে এক বালকসহ অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তথাকথিত ‘অনুপযুক্ত হিজাব’ পরার অভিযোগে নারী ও তরুণীদের গণগ্রেপ্তার শুরু করে তালেবান কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আটক হওয়া নারীদের অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অনেক পরিবারকেই কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা 'রুক্ষানা মিডিয়া'কে জানিয়েছেন, তালেবানের ব্যাপক নিরাপত্তা উপস্থিতি সত্ত্বেও গত মঙ্গলবার জিবরাইল জেলায় প্রায় ৭০ জন মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন। এ সময় তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাধীনতাসহ নারীদের খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এক বাসিন্দা বলেন, ‘মানুষের মনে ভয় ছিল, তাও তারা রাজপথে নেমে এসেছিল।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এর জবাবে তালেবান বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, গুলিতে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৩ জনকে মারধর করার পর আটক করেছে কর্তৃপক্ষ।

জাতিসংঘ নিশ্চিত করেছে যে নিহতদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর কাছে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধারা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে এবং এক নারীর কণ্ঠে গুলির শব্দের মাঝেই ‘আজাদি’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফেরেশতা আব্বাসি বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, গত কয়েক দিনে তালেবান কিছু নারীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং দৃশ্যত এই কারণেই তাদের পরিবারের সদস্য ও অন্যরা নিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। তারা একে ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।’

আফগানিস্তানে অনুমোদনহীন যেকোনো ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ থাকায় সেখানে বিক্ষোভের ঘটনা বিরল।

স্থানীয় অধিকারকর্মীরা দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া নারীরা মূলত শালীন পোশাকই পরেছিলেন। মারিয়াম (ছদ্মনাম) নামের একজন বলেন, ‘সম্পূর্ণ হিজাব পরা থাকা সত্ত্বেও তাদের গ্রেপ্তার এবং লাঞ্ছিত করা হয়েছে, যা তাদের পরিবারের সদস্যরা বড় অপরাধ হিসেবে দেখছেন।’

এক বিক্ষোভ সংগঠক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গ্রেপ্তার, বেকারত্ব এবং স্কুলগুলো টানা বন্ধ থাকার কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক প্রচারক সামিরা হামিদি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর এই প্রতিবাদে পুরুষদের অংশগ্রহণ এটাই প্রমাণ করে যে, পাঁচ বছর ধরে নারী ও মেয়েদের ওপর তালেবানের নিয়মতান্ত্রিক নিপীড়ন এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব করার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ কতটা বেড়েছে।’

তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হেরাতে তাদের একজন মুখপাত্র তালেবান নিয়ন্ত্রিত জাতীয় টেলিভিশনকে বলেন, হিজাবের কারণে নারীদের আটক করার খবরটি ভিত্তিহীন এবং এই কারণে কখনোই কোনো নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

শীর্ষনিউজ