ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে অপহরণের প্রায় এক মাস পর ছয় নাগা যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১০ জুন) কাংপোকপি জেলার একটি দুর্গম এলাকা থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারগুলোর অভিযোগ, কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা ওই যুবকদের অপহরণের পর হত্যা করেছে। লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগা অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। সেনাপতি ও উখরুলসহ একাধিক জেলায় যানবাহনে আগুন দেওয়া এবং সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে।
রাজধানী ইম্ফলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জওহরলাল নেহরু মেডিকেল সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের বাইরে বিপুল মানুষের জড়ো হওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
নাগা সংগঠনগুলোর দাবি, অপহৃতদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তাদের হত্যা করা হয়েছে। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
গত মে মাসে নাগা ও কুকি গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটে। পরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে কিছু বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হলেও ছয় নাগা যুবককে আর ফেরত পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধারে একাধিক অভিযান চালানো হয়, যার পর বুধবার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কার্যকর রাজনৈতিক সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
বর্তমান সহিংসতার মধ্যেই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে কর্মসূচি চললেও, মণিপুরের পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করলেও নতুন সংঘর্ষের আশঙ্কা এখনো রয়ে গেছে।
শীর্ষনিউজ