যুক্তরাজ্যের রাজা চার্লস ও রানি কামিলার উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে রাজকুমারী অ্যানের ছেলে পিটার ফিলিপসের। গতকাল শনিবার গ্লুচেস্টারশায়ারের কেম্বল গ্রামের ‘অল সেইন্টস চার্চ’-এ একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর নার্স হ্যারিয়েট স্পার্লিংকে বিয়ে করেন তিনি। এই গ্রামেই প্রথম দেখায় তাদের পরিচয় হয়েছিল বলে বিয়ের জন্য এই ভেন্যু বেছে নেওয়া হয়।
বিয়েতে অংশ নিতে রাজা ও রানির পাশাপাশি প্রিন্স ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস (উইলিয়াম ও কেট), জারা ও মাইক টিন্ডাল এবং ডিউক ও ডাচিজ অব এডিনবরাসহ রাজপরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হন। এছাড়া প্রিন্সেস ইউজেনিয়া ও বিয়াট্রিস তাদের স্বামীদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
রাজকীয় এই বিয়ে দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ চার্চের আশেপাশে জড়ো হন। প্রিন্স উইলিয়াম ও ক্যাথরিন (কেট) চার্চে পৌঁছালে উপস্থিত জনতা তাদের জোরে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠান ঘিরে চার্চের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং রাস্তা বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কনে স্পার্লিং যখন তার তিন ব্রাইডসমেইড ফিলিপসের দুই মেয়ে সাভানা (১৫) ও ইসলাম (১৪) এবং স্পার্লিংয়ের কিশোরী মেয়ে জর্জিনাকে নিয়ে পৌঁছান, তখন জনতা ‘হিপ হিপ হুররে’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
৪৮ বছর বয়সি পিটার ফিলিপস প্রিন্সেস অ্যান ও ক্যাপ্টেন মার্ক ফিলিপসের ছেলে এবং ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় ১৯তম স্থানে রয়েছেন। ২০২০ সালে প্রথম স্ত্রী অটাম কেলির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০২৪ সাল থেকে স্পার্লিংয়ের সঙ্গে তার ডেটিং শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের আগস্টে তাদের বাগদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
বিয়ের দিনেই ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ‘এপসম ডার্বি’ অনুষ্ঠিত হওয়ায়, বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করেই রাজা ও রানি রেসকোর্সের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তারা রেসিং সিজনের মূল আকর্ষণ উপভোগ করবেন এবং বিজয়ীর হাতে ট্রফি তুলে দেবেন।
ফিলিপাইন থেকে এসে ম্যালমেসবুরিতে বসবাসরত পেমিল তার মেয়ে আদ্রিয়ালকে নিয়ে বিয়ে দেখতে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং প্রিন্সেস কেটকে ফুল দেওয়ার ইচ্ছা জানান। স্থানীয় বাসিন্দা জো ফ্রেজার জানান, রাজপরিবারের আগমন উপলক্ষে গত দুই-তিন মাস ধরেই গ্রাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং স্থানীয় বেল রিংগারদের নিয়ে চার্চের ঘণ্টা বাজানোর বিশেষ অনুশীলন চলছিল।
সূত্র: বিবিসি