Image description

ইরানে হামলা আরও বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

 

সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। বুধবার (৩ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

 

নেতানিয়াহু বলেন, ইরানে আবারও পূর্ণ মাত্রায় যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করতে ইসরায়েলি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। তবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল দায়িত্ব ট্রাম্পের।

 

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা সম্ভব।

 

ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, তেহরান এখনও তাদের দেশ থেকে পারমাণবিক উপাদান বাইরে পাঠিয়ে দিতে রাজি হয়নি, তবে এই বিষয়ে তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

 

এর আগে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি উত্তপ্ত ফোনালাপের খবর সামনে আসে, যেখানে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিএনবিসির কাছে নেতানিয়াহু স্বীকার করেন, ইরানের মূল বিষয়গুলোতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার মিল থাকলেও মাঝে মাঝে কিছু কৌশলগত দ্বিমত তৈরি হয়।

এই বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো পরিবারগুলোতেও যেমনটা ঘটে, ঠিক তেমনি মাঝে মাঝে আমাদের মধ্যেও কিছু বিষয়ে দ্বিমত দেখা দেয়। তবে আমরা সবসময় দারুণ বন্ধু হিসেবে সেগুলো সমাধানের পথ খুঁজে নিই। আমাদের মধ্যে হয়তো সকালে কোনো বিষয়ে দ্বিমত হতে পারে, কিন্তু বিকেলের মধ্যেই আমরা আবার যৌথ পদক্ষেপে নেমে পড়ি।’

 

সবশেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেন হোয়াইট হাউজের ইতিহাসে ‘ইসরায়েলের সর্বকালের সবচেয়ে বড় বন্ধু’। সম্পর্কের এই গভীরতার কারণে তিনি ইরান বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি ট্রাম্পের হাতে সঁপে দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।