তেহরানের সঙ্গে চলমান চুক্তির আলোচনার মাঝেই ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি ত্যাগ করার বিষয়ে ইতোমধ্যে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই দাবি করেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘‘আমরা কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দিতে পারি না। আর ইরান ইতোমধ্যে পরমাণু অস্ত্র না রাখার বিষয়ে ইতোমধ্যে রাজি হয়েছে।’’
ট্রাম্প বলেন, ইরান এই সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে। যদিও দেশটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে। চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল এটি; যাতে তাদের সম্মত হতে হতো এবং তারা এতে রাজি হয়েছে। এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়।
তবে ইরান ঠিক কীভাবে বা কী প্রক্রিয়ায় পরমাণু অস্ত্র না রাখার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। এদিকে, দুই পক্ষের মাঝে আলোচনাধীন সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস।
চলমান সংঘাতে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে; এমন ধারণা নাকচ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের কোনও নৌবাহিনী নেই। তাদের কোনও বিমানবাহিনী নেই। তাদের খুব সামান্যসংখ্যক সৈন্য রয়েছে। তাদের কোনও নেতৃত্ব নেই, কোনও নেতৃত্ব নেই।
তিনি দেশটির অর্থনৈতিক দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। সেখানে ২৫০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি চলছে। একটি দেশের যত রকম খারাপ পরিস্থিতি হতে পারে, বর্তমানে ইরানে তার সবই রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি অবরোধের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, এই অবরোধ খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, আমি মনে করি খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিকভাবে দারুণ সাফল্য পাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ইরানের নতুন নেতৃত্ব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, দেশটির নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আলোচনা প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন। তিনি নিশ্চিতভাবেই এতে সংশ্লিষ্ট আছেন।
তিনি বলেন, ‘‘লোকজন বলছে তিনি (মোজতবা খামেনি) এই আলোচনা ও চুক্তির অনুমোদন দিচ্ছেন। কারণ বহু কাল ধরে এভাবেই সেখানে সবকিছু চলে আসছে। প্রথমে তার বাবা এবং এখন তিনি। আমার ধারণা এটি একটি উত্তরাধিকার। তবে আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক বেশ ভালো বলেই মনে হচ্ছে।’’
ইরানে ইসরায়েলের শুরুর দিকের হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন কি না, সেই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রশংসা করে বলেছেন, ইরানিরা তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে।
যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হন। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে ও দেশটির বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনি।
মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেছেন, আমি তার সঙ্গে দেখা করতে চাই। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয় তার ওপর নির্ভর করে সম্ভবত কোনও এক সময়ে আমাদের দেখাও হবে।
সূত্র: এএফপি, টাইমস অব ইসরায়েল।