২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, জানিয়েছে ইরান সরকার। ইরানি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ওই বিক্ষোভকে বিদেশি শক্তির মদদে পরিচালিত একটি 'জায়নবাদী অভ্যুত্থান' হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর মোহাম্মদ জাভাদ বাখশিয়ান হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা হয়েছে। বাখশিয়ান পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হামেদানে নিহত হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি হামেদানে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে নিরস্ত্র নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের দাবি, সাধারণ মানুষকে সহিংসতা ও দাঙ্গা থেকে রক্ষা করার জন্য তারা দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার একপর্যায়ে মেজর বাখশিয়ান তার সহকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এরপর বিক্ষোভকারীদের একটি দল তাকে মারধর করে বলে দাবি করা হয়েছে।
তাসনিমের খবরে বলা হয়, পরে ভিড়ের মধ্যে থাকা এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাখশিয়ানের শরীরে আঘাত করেন।
২০২৬ সালের জানুয়ারির ওই বিক্ষোভ দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৫টিতে অস্থিরতা দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ ছিল।
তবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই আন্দোলনকে স্বতঃস্ফূর্ত জনবিক্ষোভ হিসেবে দেখেনি।
বিক্ষোভের পর হামেদান শহরে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান চালানো হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু হামেদানেই ১৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সহিংসতার মূল পরিকল্পনাকারী এবং সংগঠক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।