Image description

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ঘিরে যে দোলাচল পরিস্থিতি তা মঙ্গলবার আরও জোরালো হলো। তৃণমূল বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছানোর পর থেকেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মনে করা হচ্ছে, দলের একাংশকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক শিবির গঠনের পথে এগোচ্ছেন।

সূত্রের দাবি, প্রায় ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন-সংবলিত একটি চিঠি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন ঋতব্রত। যদিও মঙ্গলবার স্পিকার নেই। তাকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আচমকা দিল্লি যেতে হয়েছে। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ঋতব্রত ওই চিঠি জমা দিতে পারেন বিধানসভার সচিবের কাছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, ওই চিঠিতে নতুন তৃণমূল গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের ওপর প্রকৃত অধিকার তাদের বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত ঋতব্রত বা তার ঘনিষ্ঠ শিবিরের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নথি প্রকাশ করা হয়নি।

গত কয়েকদিন ধরেই মহারাষ্ট্রে একনাথ শিন্ডে ও অজিত পওয়ারের পথ অনুসরণ করে বাংলার রাজনীতিতেও একই ধরনের সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে জল্পনা চলছিল। সেই জল্পনা আরও বাড়ে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অধিকাংশ বিধায়ক অনুপস্থিত থাকেন। সূত্রের দাবি, প্রায় ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২০ জনের মতো।

এই পরিস্থিতিতে সোশ্যালে রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়ের একটি পোস্ট রাজনৈতিক বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলে বড় ভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং প্রায় ৫০ জন বিধায়ককে নিয়ে স্পিকারের দপ্তরে পৌঁছেছেন ঋতব্রত। পোস্টের শেষে তার ‘খেলা হবে’ মন্তব্য নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, নৈতিকতার কথা বললেই এখন দলবিরোধী তকমা দেওয়া হচ্ছে। আবার বহিষ্কৃত নেতা রিজু দত্তের দাবি, তাদের পক্ষেই প্রায় ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে এবং তারাই প্রকৃত তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

তবে দলের পক্ষ থেকে কুনাল ঘোষ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা না করে সরাসরি স্পিকারের দ্বারস্থ হওয়া উচিত হয়নি।’ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বও এখনো পর্যন্ত সম্ভাব্য ভাঙন নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।