Image description

হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দীর্ঘদিনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে লেবাননের ব্যর্থতা নিয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। এতে বলা হয়েছে, শুরুতে অগ্রগতি দেখা গেলেও চলতি বছরের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যত থমকে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের শুরুতে লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার সীমিত করার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ইরান-সমর্থিত এই শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী বহু বছর ধরে রাষ্ট্রের ভেতরে সমান্তরাল শক্তি হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তবে পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত পরিস্থিতি পুরো সমীকরণ বদলে দেয়।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ এবং ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাত শুরু হওয়ার পর হিজবুল্লাহ আবারও সক্রিয়ভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে লেবাননের নিরস্ত্রীকরণ উদ্যোগ কার্যত অচল হয়ে যায়।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করে অস্ত্র জব্দ করার ক্ষেত্রে লেবানন সরকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও গৃহযুদ্ধের স্মৃতির কারণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। একই সঙ্গে গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক প্রভাব এবং সামাজিক ভিত্তিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের যুদ্ধবিরতির পর দক্ষিণ লেবানন থেকে অস্ত্র সরানোর কিছু অগ্রগতি হলেও তা স্থায়ী হয়নি। ২০২৬ সালের শুরুতে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পুরো প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর শক্তির মূল উৎস ইরান। ফলে তেহরানের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলে গোষ্ঠীটির নিরস্ত্রীকরণ প্রায় অসম্ভব। পাশাপাশি লেবাননের সেনাবাহিনীর সীমিত সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাবও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, লেবানন এখন এমন এক পরিস্থিতিতে রয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ এবং তা এড়িয়ে যাওয়া আরও বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করছে।

শীর্ষনিউজ