আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক এবং সহজ করতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
জাপানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং জলপথে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইরানকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার আহ্বান জানানোর পর এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
ফোনালাপে জাপানের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আশ্বস্ত করেন যে টোকিওর সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে ইরান বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে জাপানি বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়াই এই প্রণালি দিয়ে অত্যন্ত সহজে এবং নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, তার জন্য ইরান সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তবে এই জলপথে সৃষ্ট সংকটের জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ ইরানের নীতি নয়, বরং ইরানের শিপিং খাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও নানামুখী প্রতিবন্ধকতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিই মূলত এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক পরিবেশকে জটিল করে তুলছে।
এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান তার কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখবে বলে ফোনালাপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এই দুই নেতার ফোনালাপ বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।